Amit Shah: কর্ণাটকে আচমকা ফুড পয়েজনিংয়ের শিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! বাতিল একাধিক কর্মসূচি, কেমন আছেন এখন?
BENGALURU: Amit Shah বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ঘিরে আচমকাই তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে শনিবার। কর্ণাটক সফরে গিয়ে হঠাৎ করেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জানা গিয়েছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়েজনিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তাঁর অগণিত অনুগামী, সাধারণ মানুষ এবং বিজেপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগেই দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (Pralhad Joshi)। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আশ্বস্ত করে জানান যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং ‘পারফেক্ট’ রয়েছেন। মূলত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলেই তাঁর একাধিকবার বমি এবং শরীরে তীব্র শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল, যার কারণে তাঁকে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিত অসুস্থতার জেরে শনিবারের তাঁর বেশ কয়েকটি পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হন অমিত শাহ, যা কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতিতে এবং সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর দেওয়া বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতেই কর্ণাটকের হুব্বাল্লিতে পৌঁছেছিলেন অমিত শাহ। শনিবার তাঁর একাধিক হেভিওয়েট কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক বৈঠক নির্ধারিত ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে হঠাৎ করেই তাঁর শরীরে তীব্র অস্বস্তি শুরু হয়। সঙ্গে থাকা চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, এটি খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়েজনিংয়ের ঘটনা। প্রহ্লাদ জোশী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “অমিত শাহের আমাদের সঙ্গেই এই অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল। কিন্তু ফুড পয়েজনিংয়ের কারণে তাঁর বমি শুরু হয় এবং শরীরে তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি হোটেলেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তবে এখন তিনি একেবারে পারফেক্ট এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।” এই খবরের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ভিভিআইপি (VVIP) নিরাপত্তায় থাকা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তির খাবারের ক্ষেত্রে কীভাবে এমন মারাত্মক বিষক্রিয়া ঘটল, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা এই ঘটনার পর ভিভিআইপিদের খাওয়ার প্রোটোকল আরও কড়াকড়ি করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

অমিত শাহের এই কর্ণাটক সফর মূলত দুটি বড় মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানটি ছিল হুব্বাল্লিতে কেএলই (KLE) সোসাইটির নতুন মেডিক্যাল কলেজ ভবন এবং ১,২০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালের গ্র্যান্ড উদ্বোধন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে হোটেলে বিশ্রামে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই মেগা উদ্বোধন পর্বটি সম্পন্ন করতে হয়। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমিত শাহের জায়গায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী স্বয়ং। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কর্ণাটকের বর্তমান চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রী শরণ প্রকাশ পাটিল, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেট্টার এবং কেএলই সোসাইটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ প্রভাকর কোরে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রভাকর কোরে আবেগঘন গলায় বলেন, “আমাদের এই ঐতিহাসিক আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারলেন না। তিনি আমাকে আপনাদের সকলের কাছে তাঁর শুভেচ্ছা বার্তা এবং এই চমৎকার উদ্যোগের জন্য অভিনন্দন পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই কর্ণাটক সফর শুধুমাত্র একটি হাসপাতালের উদ্বোধন বা সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কাম্য নয়, বরং এর নেপথ্যে এক গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যও লুকিয়ে ছিল। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কর্ণাটকে বিজেপির ফলাফল নিয়ে দলের অন্দরে যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, তা খতিয়ে দেখার কথা ছিল তাঁর। এছাড়াও, রাজ্যের বর্তমান কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি আরও শক্তিশালী এবং আগ্রাসী রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার কথা ছিল। কর্ণাটক বিজেপির শীর্ষ নেতা বি. এস. ইয়েদুরাপ্পা এবং তাঁর ছেলে তথা দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি বি. ওয়াই. বিজয়েন্দ্রর সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো এক অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই সমস্ত মেগা রাজনৈতিক পরিকল্পনা সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছে। কর্ণাটকের রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর এই অনুপস্থিতি দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের কাছে বেশ হতাশাজনক, কারণ তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আগামী নির্বাচনের জন্য সরাসরি নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলেন।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হওয়ায় আপাতত স্বস্তির হাওয়া বইছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, ফুড পয়েজনিংয়ের কারণে শরীরে যে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়েছিল, তা কমানোর জন্য তাঁকে স্যালাইন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ব্লাড প্রেশার, সুগার লেভেল এবং অন্যান্য সমস্ত শারীরিক মাপকাঠি বা ভাইটাল প্যারামিটার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর এই ‘পারফেক্ট’ ঘোষণার পর আর কোনো বড়সড় স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা নেই বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তিনি তাঁর স্বাভাবিক রাজনৈতিক এবং সরকারি কাজকর্ম পুরোদমে শুরু করতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনা দেশের ভিভিআইপিদের খাদ্যাভ্যাস এবং নিরাপত্তার প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে একটি বড়সড় সতর্কতার বার্তা দিয়ে গেল। আগামী দিনে অমিত শাহ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তাঁর স্থগিত থাকা কর্ণাটক সফর এবং সেখানকার নেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য বৈঠক কবে সম্পন্ন করেন এবং তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ঠিক কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।




