Kolkata Water Taxi: মেটিয়াবুরুজ থেকে নবদ্বীপ পর্যন্ত চলবে ওয়াটার ট্যাক্সি! যানজট এড়াতে বিরাট পরিকল্পনার কথা জানালেন মন্ত্রী অর্জুন সিং
KOLKATA: Kolkata Water Taxi বা কলকাতার বুকে এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে যাতায়াতের দিশা দেখাতে শুরু হতে চলেছে ওয়াটার ট্যাক্সি পরিষেবা। শহর ও শহরতলির রাস্তায় ক্রমবর্ধমান যানবাহন এবং নিত্যদিনের দমবন্ধ করা যানজটের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এবার জলপথকে হাতিয়ার করছে রাজ্য সরকার। মুম্বই বা কেরলের কোচির ধাঁচে গঙ্গার বুক চিরে বিকল্প গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিরাট উদ্যোগ নিয়েছে পরিবহন দপ্তর। সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেই রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন যে, মেটিয়াবুরুজ থেকে শুরু করে একেবারে নবদ্বীপ পর্যন্ত জলপথে যাতায়াতের সুবিধার্থে অত্যাধুনিক ওয়াটার ট্যাক্সি নামানোর কথা ভাবা হয়েছে। সড়কপথের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে জলপথকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতেই মূলত এই মেগা প্রকল্পের সূচনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই রুটটিকে কার্যকর করার জন্য পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সার্ভে বা সমীক্ষার কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে।

পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং এদিন একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ছোট রুটে নয়, ধাপে ধাপে এই ওয়াটার ট্যাক্সির রুটকে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মেটিয়াবুরুজ থেকে বাবুঘাট এবং ব্যারাকপুর থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু করার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া হাওড়া, বালি এবং বেলুড়কেও জলপথের এই আধুনিক পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর এর চূড়ান্ত রূপরেখা হিসেবে মেটিয়াবুরুজ থেকে সোজা নবদ্বীপ পর্যন্ত গঙ্গার তীরে বেশ কয়েকটি আধুনিক স্টেশন বা জেটি তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছে। অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক হাইব্রিড বোট বা জলযানগুলিকে এই কাজে ব্যবহার করা হবে, যা একদিকে যেমন সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হবে, অন্যদিকে তেমনই যাত্রীদের খুব দ্রুত এবং যানজটমুক্ত পরিবেশে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। সাধারণ নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও এই ওয়াটার ট্যাক্সি আগামী দিনে এক বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে।
আরও পড়ুন: Bidyadhari Boat Accident: মাঝনদীতে আচমকা উল্টে গেল বাইচের নৌকা! বিদ্যাধরীতে হাবুডুবু ২০ প্রতিযোগী, অল্পের জন্য রক্ষা
জলপথের পাশাপাশি সড়কপথেও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও মসৃণ করতে পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন অর্জুন সিং। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের রাস্তায় নতুন করে আরও ৯০টি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক এবং সিএনজি (CNG) বাস নামানো হবে। ইতিমধ্যেই এরকম ৫০টি বাস রাস্তায় নেমে গিয়েছে। পাশাপাশি, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে অন্তত ১,০০০টি নতুন সরকারি বাস চালু করার বড় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ বাসকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক সময় সাধারণ মানুষ ট্রেনের টিকিট না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই উন্নত সরকারি বাস পরিষেবা দিয়ে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য সরকার। বাসের সংখ্যা বাড়লে নিত্যযাত্রীরা অনেক সহজেই এবং আরামে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিবহন মন্ত্রী।

পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর এই উদ্যোগে শুধুমাত্র বাস বা জলযান নয়, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রামকেও আধুনিক রূপ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০৪৭ বিকশিত ভারত স্লোগানের অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে ট্রাম চালানোর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। আগামী দুর্গাপুজোর সময় দর্শনার্থীদের ট্রামে চেপে ঘোরানোর বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, বিসর্জনের দিন গঙ্গাবক্ষে ডাবল ডেকার ভেসেলের পরিষেবাও চালু থাকবে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কলকাতার সম্পূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থাকে মসৃণ ও প্রযুক্তি-নির্ভর করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে শহরজুড়ে ট্র্যাফিক নজরদারি চালানো থেকে শুরু করে পার্কিং সমস্যার সমাধান—সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, মহিলাদের বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধার্থে ‘পিঙ্ক কার্ড’ চালু করার টেন্ডার প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
সর্বোপরি, অর্জুন সিংয়ের এই ঘোষণা রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বন্ধ জুটমিলগুলি চালু করার বিষয়টিতেও তিনি জোর দিয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে ওয়াটার ট্যাক্সির ওপর। গঙ্গার তীরবর্তী এলাকার মানুষ, যাঁরা প্রতিদিন ট্রেন বা বাসের ভিড় ঠেলে কলকাতায় আসেন, তাঁদের কাছে জলপথের এই বিকল্প একটি বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যদি দূষণমুক্ত পরিবেশে গঙ্গার ওপর দিয়ে বাবুঘাট বা মেটিয়াবুরুজে পৌঁছে যাওয়া যায়, তবে তা নিত্যদিনের যাতায়াতে এক বড় বিপ্লব আনবে। এখন দেখার বিষয়, পরিবহন দপ্তরের এই সমীক্ষার কাজ কত দ্রুত শেষ হয় এবং কবে থেকে সাধারণ মানুষ এই স্বপ্নের ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে গঙ্গার ওপর দিয়ে যানজটমুক্ত যাতায়াতের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।




