E-Challan: জরিমানা না মেটালে জুড়বে বিদ্যুৎ বিলে! কড়া সুপ্রিম কোর্ট
E-Challan ফাঁকি দেওয়ার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। রাস্তায় ট্র্যাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করে পুলিশের চোখে ধুলো দিলেও, বকেয়া জরিমানা বা ই-চালানের টাকা আদায়ে এবার এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত কড়া প্রস্তাব সামনে আনল দেশের শীর্ষ আদালত। অভিযোগ, ট্র্যাফিক আইন ভাঙার পর চালকদের নামে চালান কাটা হলেও অনেকেই দিনের পর দিন সেই জরিমানার টাকা মেটাচ্ছেন না। এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া আদায়ে এবার থেকে জরিমানার টাকা সরাসরি নাগরিকদের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের মতে, বিদ্যুৎ বিল না মেটালে যেমন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, ঠিক তেমনই এই কড়া পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বকেয়া জরিমানা খুব দ্রুত আদায় করা সম্ভব হবে। এটি আপাতত আদালতের একটি মেগা পরামর্শ মাত্র এবং দেশজুড়ে এটি কার্যকর করার কোনও চূড়ান্ত আইনি নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য যে তা এক বিরাট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।

শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে সোমবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতেই আদালত অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করে যে, শুধুমাত্র রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ ই-চালান কাটলেই ট্র্যাফিক পুলিশের দায়িত্ব কোনোভাবেই শেষ হয়ে যায় না। বরং সেই জরিমানার টাকা বাস্তবে সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে কি না, সেটাই আসল দেখার বিষয়। মামলার শুনানিকালে আদালতকে একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ পরিসংখ্যান দিয়ে জানানো হয় যে, দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার কোটি টাকার জরিমানা বকেয়া পড়ে রয়েছে। মামলা চলাকালীন ইতিমধ্যেই প্রায় পঁচিশ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হলেও, বাকি থাকা বকেয়ার অঙ্ক এখনও রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া অর্থ আদায় না হওয়া আদতে সরকারি পরিকাঠামোরই একটি বড়সড় ব্যর্থতা। তাই শুধুমাত্র চালান কাটার সংখ্যা বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই, যদি না সেই টাকা সঠিকভাবে আদায় করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট এবং কড়া মেকানিজম বা পরিকাঠামো তৈরি করা হয়।

আরও পড়ুনঃUjjain: শাহী মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র উজ্জয়িন!
এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া জরিমানার টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে বিকল্প ও কার্যকর উপায় বাতলাতে গিয়েই বিচারপতি পারদিওয়ালা শুনান চলাকালীন বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত স্পষ্ট পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, সাধারণ মানুষ যদি নিজেদের জরিমানা স্বেচ্ছায় না মেটান, তবে সেই বকেয়া অঙ্ক সরাসরি তাঁদের বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সাথে যুক্ত করে দেওয়ার মেগা ব্যবস্থা করা হোক। তাঁর এই যুগান্তকারী যুক্তির নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব, কারণ বিদ্যুৎ বিল সাধারণ মানুষকে মাসের শেষে পরিশোধ করতেই হয়, নইলে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। ঠিক সেই ভীতির জায়গাটিকেই কাজে লাগিয়ে বকেয়া আদায়ে এমন অভিনব ও কড়া সমাধানের পথ বের করতে বলেছেন বিচারপতি। সাধারণ মানুষ অনেক সময়েই ট্র্যাফিক জরিমানাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাবে, সেই ভয় থেকেই তাঁরা বকেয়া মেটাতে বাধ্য হবেন বলে মনে করছে আদালত।

শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বিলে জরিমানা জুড়ে দেওয়াই নয়, এর পাশাপাশি বকেয়া আদায়ে আরও একাধিক কড়া ও বিকল্প ব্যবস্থার কথাও শুনানিতে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আদালত জানিয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত বকেয়া চালান মেটানো হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত ওই সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আরসি (RC) রিনিউ করা, ডুপ্লিকেট আরসি প্রদান এবং গাড়ির মালিকানা বদলের মতো অত্যন্ত জরুরি কাজগুলি সম্পূর্ণ আটকে দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে হবে। এর সঙ্গেই গাড়ির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং পলিউশন বা পিইউসি (PUC) সার্টিফিকেট প্রদানও জরিমানা না মেটানো পর্যন্ত বন্ধ রাখা যেতে পারে বলে আদালত নিজস্ব মত প্রকাশ করেছে, যা চালকদের ওপর মেগা চাপ সৃষ্টি করবে। এই ধরনের কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে গাড়ির মালিকরা আর কোনোভাবেই আইন ফাঁকি দেওয়ার সাহস পাবেন না। কারণ, গাড়ির নথিপত্র আপডেট না থাকলে রাস্তায় বেরোনোই তাঁদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুনঃ SRFTI: ক্যাম্পাসে বহিরাগত তাণ্ডব! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ঋত্বিক, টলিউডের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ঊষসীর।
এর বাইরেও আরও কিছু মেগা পদক্ষেপ নিয়ে আদালতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে বকেয়া চালান থাকা গাড়িকে পরিবহণ দপ্তরের পোর্টালে সরাসরি ব্ল্যাকলিস্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ বন্ধ করা বা দরকারে লাইসেন্স সাসপেন্ড করার মতো কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে। এমনকি রাস্তায় র্যান্ডম চেকিং করার সময় যদি কোনও গাড়ির বকেয়া চালান ধরা পড়ে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই গাড়িটিকে সরাসরি আটকে রাখার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ব্যবস্থাকে বাস্তবে কার্যকর করতে হলে এমন কঠোর পদ্ধতি খুঁজতে হবে, যাতে জরিমানা আদায়ের বিষয়টি শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই আটকে না থাকে। তবে এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে জরিমানা যুক্ত করার বিষয়টি কেবল প্রস্তাবের স্তরেই রয়েছে। কবে তা বাস্তবে রূপায়িত হবে, তা আগামী দিনের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। তবে আদালতের এই কড়া মনোভাব থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আগামী দিনে ট্র্যাফিক আইন অমান্য করে এবং জরিমানার টাকা ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সহজ সুযোগ আর থাকবে না।




