Mamata Banerjee: দল-প্রতীক হারা মমতার ভরসা ‘ইন্ডিয়া’ জোট! অভিষেকের সঙ্গে তড়িঘড়ি দিল্লি উড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
Mamata Banerjee: দল ও নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতীক হারানোর চরম সংকটের মুহূর্তে এবার বিরোধী ইন্ডিয়া (INDIA) জোটকেই কার্যত খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে চাইছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে তড়িঘড়ি দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ে গেলেন তিনি। এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁর দীর্ঘদিনের পুরনো রাজনৈতিক সাথী দোলা সেনকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হতে দেখা যায় তাঁকে। জানা গিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সফরে তাঁর সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বুধবার বিরোধী জোটের এই বৈঠকে আগামী দিনের যৌথ কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান যে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আগামী দিনের রণকৌশল নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের একটি অত্যন্ত জরুরি বৈঠক রয়েছে, আর মূলত সেই কারণেই তাঁর এই দিল্লি যাত্রা। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দুই রাজনৈতিক নেতা—আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব। তাঁদের এই অনুপস্থিতি বিরোধী জোটের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Baba Vanga Rashifal: বাবা ভাঙ্গার মেগা ভবিষ্যৎবাণী! আজ কোন রাশির চরম সৌভাগ্য আর কাদের পদে পদে বিপদ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর বর্তমানে প্রবল অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন তৃণমূল নেত্রী। রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই একই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে বাম ও কংগ্রেসকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখন সেই দুই দলকেই মরিয়া হয়ে নিজের পাশে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, বাংলায় বাম এবং কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বা কোনো রকম রাজনৈতিক সখ্যতা নিয়ে চরম আপত্তি ও তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর আলাদাভাবে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

বিরোধী জোটের অন্দরের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে টেলিফোনে অত্যন্ত দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এর আগে এম এ বেবির তরফ থেকে দেশের সমস্ত বিরোধী নেতাকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠির লিখিত জবাব দেওয়ার পরেই গত শনিবার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে সরাসরি কথা বলেন তিনি। টেলিফোনিক কথোপকথনে তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ইন্ডিয়া ব্লকের সমস্ত নেতাদের নিয়ে একটি বৃহত্তর বৈঠক ডাকার জন্য বিশেষ আর্জি জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, সিপিএম নেতা এম এ বেবির তরফ থেকেও সমস্ত বিরোধীদের নিয়ে একটি বৃহত্তর বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হলে তাতে অবিলম্বে সিলমোহর দেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। এই টেলিফোনিক কথোপকথনের সময় সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে অতিদ্রুত জোটবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার জোরালো পরামর্শ দেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে পৌঁছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও তিনি আলাদা করে সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।




