Balochistan Liberation Front: বালোচিস্তানের ‘লক্ষ্মীবাই’দের ভয়াবহ হামলা! ৯ পাক জওয়ানকে খতম করল মহিলা ব্রিগেড

Published:

Balochistan Liberation Front: বালোচিস্তানের ‘লক্ষ্মীবাই’ দের ভয়াবহ হামলা! ৯ পাক জওয়ানকে খতম করল মহিলা ব্রিগেড

Balochistan Liberation Front: বালোচিস্তানের স্বাধীনতার লড়াই এবার এক সম্পূর্ণ নতুন এবং ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছল। পাকিস্তানি সেনার অকথ্য অত্যাচার এবং শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবার সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে বালোচিস্তানের ‘লক্ষ্মীবাই’রা। বালোচ লিবারেশন ফ্রন্ট বা Balochistan Liberation Front (বিএলএফ)-এর মহিলা শাখা, যার পোশাকি নাম ‘করিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশন’ (KAAD), সম্প্রতি এক দুঃসাহসিক জোড়া অভিযান চালিয়েছে। এই সশস্ত্র অভিযানে অন্তত ৯ জন পাকিস্তানি জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে চলা পাকিস্তানি সেনার রক্তচক্ষু এবং দমনপীড়নের কড়া জবাব দিতে বালোচ নারীদের এই সশস্ত্র উত্থান গোটা বিশ্বকে কার্যত চমকে দিয়েছে। বালোচিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পাক সেনার ঘুম ছুটিয়ে দিয়ে এই প্রমীলা বাহিনী প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য তাঁরা যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। সম্প্রতি Balochistan Liberation Front-এর পক্ষ থেকে এই হামলার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, যা দেখে রীতিমতো কাঁপছে ইসলামাবাদ।

Advertisement Andaman Vibes

বিদ্রোহী গোষ্ঠী Balochistan Liberation Front-এর তরফ থেকে সমাজমাধ্যমে যে রোমহর্ষক ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে বালোচ মহিলা যোদ্ধাদের রণমূর্তি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ভিডিওটির শুরুতে দেখা যাচ্ছে, সম্পূর্ণ সামরিক পোশাকে এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মহিলা যোদ্ধাদের কমান্ডার পর্যায়ের একজন নেত্রী তাঁর সঙ্গীদের অভিযানের নিখুঁত রণকৌশল সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝাচ্ছেন। এরপরই ভিডিওর একটি অংশে দেখা যায়, মাঝরাস্তায় পাক সেনার গাড়ি থামিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তল্লাশি চালাচ্ছেন এই নারীরা। কখনও আবার চলন্ত পাকিস্তানি সেনার কনভয় বা কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্সকে লক্ষ্য করে দূর থেকে এলোপাথাড়ি গুলির বৃষ্টি ছোড়া হচ্ছে। বালোচ সশস্ত্র বাহিনীর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের এই ‘কাদ’ (KAAD) উইং মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়েছে। প্রথম হামলাটি হয় কালাত জেলার মাংচার অঞ্চলে এবং দ্বিতীয় দুঃসাহসিক অভিযানটি চালানো হয় তুর্বত শহরের জোসক অঞ্চলে। এই দুই সুকৌশলী সাঁড়াশি আক্রমণেই ৯ জন পাক সেনা চিরতরে খতম হয়েছে বলে খবর।

Rasik Dulari Sharan: বৃন্দাবনের আশ্রমে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য রসিক দুলারি শরণের রহস্যজনক মৃত্যু এবং পুলিশের তদন্ত
Rasik Dulari Sharan: বৃন্দাবনের আশ্রমে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য রসিক দুলারি শরণের রহস্যজনক মৃত্যু এবং পুলিশের তদন্ত।

আরও পড়ুনঃ Premanand Maharaj: ‘দেখা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি…’, প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যের মৃত্যুতে বিস্ফোরক পরিবার।

বালোচিস্তানের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই মহিলা ব্রিগেডের গঠন এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। Balochistan Liberation Front দাবি করেছে যে, রাতারাতি এই বাহিনী তৈরি হয়নি; বরং বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ি দুর্গম পরিবেশে অত্যন্ত কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁরা এই দুর্ধর্ষ মহিলা ব্রিগেড তৈরি করেছে। বালোচিস্তানের চলমান স্বাধীনতার লড়াইয়ে বর্তমানে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করছে এই সশস্ত্র নারীবাহিনী। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এই ফোর্সের নামকরণ। বালোচিস্তানের প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী এবং প্রতিবাদী নেত্রী করিমা বালোচের পুণ্য স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ইউনিটের নাম রাখা হয়েছে ‘করিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশন’। উল্লেখ্য, এই করিমা বালোচ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে সরব হয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে কানাডায় অত্যন্ত রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়। বালোচদের স্থির বিশ্বাস, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আজ সেই করিমার নামেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে বালোচ নারীরা, যা পাক প্রশাসনের কাছে এক বিরাট আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

Balochistan Liberation Front-এর প্রকাশিত ভিডিওর আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তুর্বতের জোসক এলাকায় হওয়া হামলাটি। জানা গিয়েছে, এই এলাকায় চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি (CPEC) সড়কের ওপর দিয়েই পাকিস্তানি সেনার একটি বড় কনভয় যাতায়াত করছিল। ঠিক সেই সময়েই ওত পেতে থাকা মহিলা যোদ্ধারা সেই কনভয়ে আচমকা তীব্র হামলা চালায়। বিশেষ করে পাকিস্তানি সেনার ‘কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স’-এর গাড়ি লক্ষ্য করেই বৃষ্টির মতো গুলি চালানো হয়। বালোচিস্তানের স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে এই সিপিইসি প্রকল্প হলো এক চূড়ান্ত বঞ্চনার প্রতীক। তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই বিরাট অর্থনৈতিক করিডর তৈরি করার অছিলায় চিন এবং পাকিস্তান যৌথভাবে বালোচিস্তানের অমূল্য খনিজ সম্পদ দিনের আলোয় লুট করছে। এই বিপুল সম্পদের বিনিময়ে স্থানীয় বালোচ জনতা পেয়েছে শুধুই চরম দারিদ্র, বঞ্চনা এবং সীমাহীন নির্যাতন। আর সেই বঞ্চনার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই আজ সিপিইসি-র মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত রুটেও হামলা চালাতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করছে না বালোচ যোদ্ধারা।

IMG 20260930 WA0003
JMB in West Bengal: খাগড়াগড় কাণ্ডের ১২ বছর পর বঙ্গে ফের সক্রিয় জেএমবি! এনআইএ অভিযানে গ্রেপ্তার ইমামসহ অনেকে।

আরও পড়ুনঃ JMB in West Bengal: খাগড়াগড় কাণ্ডের ১২ বছর পর বঙ্গে ফের সক্রিয় জেএমবি! এনআইএ অভিযানে গ্রেপ্তার ইমামসহ অনেকে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বালোচিস্তানের পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল চিরতরে ভেঙে ফেলতে মরণপণ সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে Balochistan Liberation Front এবং অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলি। আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত বিরাট সেনাবল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেও এই রুক্ষ ও দুর্গম অঞ্চলে বালোচ বিদ্রোহীদের হাতে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে সুশিক্ষিত পাক সেনাকে। ময়দানে সরাসরি এঁটে উঠতে না পেরে পালটা চরম অমানবিক পথ বেছে নিয়েছে ইসলামাবাদ। সাধারণ বালোচ নাগরিকদের দিনের পর দিন গুমখুন করা, বিনা বিচারে আটকে রাখা, হত্যা ও নারীদের ওপর ধর্ষণের মতো পৈশাচিক অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের এই দাবানল নেভানোর মরিয়া চেষ্টা করছে পাক প্রশাসন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, অত্যাচার যত বাড়ে, প্রতিবাদের আগুন তত তীব্র হয়। আজ যখন বালোচিস্তানের নারীরাও ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে, নিজেদের জীবনের পরোয়া না করে হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তুলে নিয়েছেন, তখন এটা স্পষ্ট যে এই স্বাধীনতার লড়াই সহজে থামার নয়। বালোচিস্তানের এই ‘লক্ষ্মীবাই’দের উত্থান আগামী দিনে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে যে এক বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Ad

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img