Budgam Encounter: কাশ্মীরে বাহিনীর বিরাট সাফল্য! খতম কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি, রইল 5 Updates
Budgam Encounter: কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক অত্যন্ত বড়সড় এবং ঐতিহাসিক সাফল্য পেল ভারতীয় সেনা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। মধ্য কাশ্মীরের বদগাম জেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে এক তীব্র ও রক্তক্ষয়ী গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছে অত্যন্ত কুখ্যাত এক লস্কর-ই-তৈবা (LeT) কমান্ডার। নিহত ওই শীর্ষ জঙ্গি নেতার নাম সুলেমান শাহ, যে উপত্যকায় ‘মুসা’ নামেই বেশি পরিচিত ছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় একেবারে ওপরের দিকে ছিল এই কুখ্যাত জঙ্গি। উপত্যকায় শান্তি বিঘ্নিত করতে সে একাধিক বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অবশেষে ভারতীয় সেনার একটি নিখুঁত এবং সুপরিকল্পিত অভিযানে তার সেই সমস্ত ঘৃণ্য পরিকল্পনা চিরতরে ব্যর্থ হলো। সেনার এই বিরাট সাফল্য উপত্যকার সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে সুরক্ষা ও ভরসার জন্ম দিয়েছে।

কীভাবে এই বড়সড় অভিযানটি সংগঠিত হলো, তার বিস্তারিত বিবরণ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, গোপন এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার এই বিশেষ অভিযানটি শুরু করা হয়। বদগামের ইউসমার্গ সংলগ্ন কোরাগ এলাকার জঙ্গল ও পাহাড়ি ঢালে এই যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল ভারতীয় সেনার রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ। এই Budgam Encounter বা গুলির লড়াই শুরু হওয়ার আগে গোটা এলাকাটিকে একেবারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। যাতে কোনোভাবেই জঙ্গিরা জঙ্গল বা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য সমস্ত পালানোর রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। অত্যন্ত সুকৌশলে জওয়ানরা পাহাড়ি ঢাল বেয়ে জঙ্গলের আরও গভীরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। বাহিনীর এই যৌথ তৎপরতা এবং নিখুঁত রণকৌশল এই অভিযানের সাফল্যের অন্যতম বড় চাবিকাঠি।

সেনার চিনার কোরের পক্ষ থেকে এই গোটা অভিযানের রোমহর্ষক বিবরণ সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন যে, ঘন বনাঞ্চলে তল্লাশি চালানোর সময় হঠাৎ করেই জওয়ানরা কিছু সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তখন নিয়ম মেনে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করার জন্য কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানান। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে জঙ্গিরা আচমকাই সেনার জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে এবং জঙ্গিদের কড়া জবাব দিতে সঙ্গে সঙ্গে পালটা ফায়ার করে ভারতীয় বাহিনীও। দুধপাথরির ওই গভীর এবং দুর্গম অরণ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই চলতে থাকে। আর সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেই অবশেষে প্রাণ হারায় লস্করের ওই শীর্ষ জঙ্গি মুসা। এই সফল Budgam Encounter ভারতীয় সেনার অসীম সাহস এবং রণকৌশলের আরও একটি বড় প্রমাণ।

নিহত এই জঙ্গি নেতার অতীত রেকর্ড অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং রক্তাক্ত। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, পীর পঞ্জাল পর্বতমালার উভয় প্রান্তেই গত কয়েক বছর ধরে সে একাধিক মারাত্মক নাশকতামূলক হামলার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিল। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের ওপর হওয়া বহু হামলায় এই সুলেমান শাহ ওরফে মুসার প্রত্যক্ষ মদত ছিল। চলতি মাসের শুরুতেই, গত ৫ সেপ্টেম্বর এই একই ইউসমার্গ অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার একবার মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল। সেই সময় কোনোক্রমে জঙ্গলপথে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিল সে। যদিও সেদিনের সেই বিশেষ অভিযানে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির নিহত হয়েছিল। কিন্তু এবার আর শেষরক্ষা হলো না, বাহিনীর কড়া ঘেরাটোপ ভেদ করে বেরোতে পারল না সে। চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এই সফল Budgam Encounter-এ তাকে নিজের প্রাণ হারাতে হলো।

লস্করের এই শীর্ষ কমান্ডারের নিকেশ হওয়াকে উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপের কফিনে এক বড় পেরেক হিসেবেই দেখছেন দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, মুসার মৃত্যুতে লস্কর-ই-তৈবার মনোবল অনেকটাই ভেঙে পড়বে এবং উপত্যকায় তাদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হবে। তবে সেনার তরফ থেকে তল্লাশি অভিযানে কোনো রকম ঢিলেমি দেওয়া হচ্ছে না। ওই নির্দিষ্ট এলাকায় আর কোনো জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা জঙ্গল এবং সংলগ্ন অঞ্চল ঘিরে ফেলে এখনও চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন জওয়ানরা। স্নিফার ডগ দিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে কোনো বিস্ফোরক মজুত রয়েছে কি না। সব মিলিয়ে এই সফল Budgam Encounter আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, ভারতীয় ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং তাদের শেষ পরিণতি যে মৃত্যু, তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো।




