India vs Pakistan Hockey: উনপঞ্চাশ সেকেন্ড বাকি থাকতে গোল! পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়াডের ফাইনালে ভারত
India vs Pakistan Hockey: চলতি এশিয়া গেমসে হকির ময়দানে ভারতের পুরুষ দল যে কতটা বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছে, তা তারা আগের ম্যাচগুলিতেই প্রমাণ করে দিয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলেন হরমনপ্রীত সিংরা। ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে নামার আগে ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস ছিল একেবারে তুঙ্গে। তবে আগের ম্যাচগুলোর মতো এই ম্যাচটি ভারতের জন্য মোটেই সহজ ছিল না। বরং একসময় মনে হচ্ছিল যে ম্যাচ হয়তো টাইব্রেকারের দিকেই গড়াচ্ছে। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে, খেলা শেষ হওয়ার মাত্র উনপঞ্চাশ সেকেন্ড আগে এক অবিশ্বাস্য গোল করে ভারতকে ফাইনালে পৌঁছে দিলেন অভিষেক। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে চার-তিন গোলের রুদ্ধশ্বাস ব্যবধানে হারিয়ে ভারতীয় দল এখন এশিয়াডে সোনার পদক জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই জয়ে গোটা দেশজুড়ে এক আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছে।
ম্যাচের শুরুটা ঠিক ভারতের পরিকল্পনা মতোই হয়েছিল। প্রথম কোয়ার্টার থেকেই ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করে। খেলা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ভারত তাদের প্রথম পেনাল্টি কর্নারটি আদায় করে নেয়। বর্তমানে বিশ্ব হকিতে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করার ক্ষেত্রে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংয়ের থেকে ভালো ড্র্যাগ-ফ্লিকার হয়তো আর কেউ নেই। তিনি তাঁর নামের প্রতি সুবিচার করে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এক-শূন্য ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথম কোয়ার্টারের শেষ লগ্নে, অর্থাৎ তেরো মিনিটের মাথায় ভারত আরও একটি পেনাল্টি কর্নার পায়। এবারও সেই হরমনপ্রীতের স্টিক থেকেই আসে দলের দ্বিতীয় গোলটি। প্রথম পনেরো মিনিটেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান দল কিছুটা চাপে পড়ে যায়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ভারতের দাপট অব্যাহত থাকে। তেইশ মিনিটের মাথায় ভারতের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন সুখজিৎ সিং। তখন দেখে মনে হচ্ছিল, ভারত হয়তো খুব সহজেই এই ম্যাচটি জিতে নেবে।
![]()
কিন্তু পাকিস্তান দল এত সহজে হার মানতে রাজি ছিল না। তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তারা মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করে। দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ হওয়ার ঠিক আগে একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন পাকিস্তানের আবু মাহমুদ। এই গোলটি পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয় কোয়ার্টারে পাকিস্তান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হকি খেলতে শুরু করে। এই সময়ে খেলা বেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আটত্রিশ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখে পাঁচ মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে বাধ্য হন পাকিস্তানের আহমেদ বাট। অন্যদিকে তেতাল্লিশ মিনিটে সবুজ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যান ভারতের দিলপ্রীত সিং। ফলে তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দু’মিনিট উভয় দলকেই দশ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃতীয় কোয়ার্টারের একেবারে শেষ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ভারতের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোল করে দেন পাকিস্তানের হান্নান শাহিদ।
চতুর্থ এবং শেষ কোয়ার্টারে ভারতের খেলা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, যা তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। রক্ষণ মজবুত করার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। উনপঞ্চাশ মিনিটের মাথায় ফের ডান প্রান্ত দিয়ে ভারতীয় রক্ষণে আক্রমণ শানায় পাকিস্তান। এবার গোল করে দলকে তিন-তিন গোলে সমতায় ফেরান ওয়াহিদ রানা। পরপর গোল খেয়ে ভারতীয় দলের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। তিন গোল হজম করার পর ভারতের আক্রমণের ঝাঁঝ ফের বাড়তে শুরু করে, কিন্তু কিছুতেই গোলের মুখ খুলছিল না। দর্শকদের মনে তখন টাইব্রেকারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঠিক এমন একটা স্নায়ুর চাপের মুহূর্তে, খেলা শেষ হওয়ার মাত্র উনপঞ্চাশ সেকেন্ড বাকি থাকতে, পাকিস্তানের সার্কেলে ঢুকে এক জোরালো শট মারেন ভারতের অভিষেক। সেই শট আটকানোর কোনো সুযোগই পাননি পাকিস্তানি গোলরক্ষক। আর সেখান থেকেই চার-তিন গোলের ব্যবধানে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষদের হকিতে গত দশ বছর ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত অপরাজিত রয়েছে। এই ম্যাচটি নিয়ে শেষ একুশটি সাক্ষাতেই জয়লাভ করল ভারত। সেমিফাইনালের এই ম্যাচে বল পজেশন বা বলের দখল ভারতের কাছেই বেশি ছিল। সার্কেল পেনিট্রেশনের ক্ষেত্রেও পাকিস্তান যেখানে মাত্র বারোবার ভারতের সার্কেলে ঢুকেছে, সেখানে ভারত ঢুকেছে বাইশবার। এত দাপট দেখিয়ে খেলা সত্ত্বেও ভারতের এই কষ্টার্জিত জয় দলের রক্ষণভাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ফাইনালের আগে এই রক্ষণাত্মক ত্রুটিগুলো শোধরানোই এখন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং এবং কোচিং স্টাফদের প্রধান লক্ষ্য হবে। কারণ ফাইনালে যেকোনো ছোট ভুলই সোনার পদক হাতছাড়া হওয়ার কারণ হতে পারে।




