Virat Kohli Anushka Sharma: আশ্রমে শিষ্যের রহস্যমৃত্যুর পরই বিরুষ্কাকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি ফলাহারি মহারাজের
Mumbai: ভারতের ক্রিকেট এবং বিনোদন দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মার আধ্যাত্মিক জীবনযাপন সবসময়ই খবরের শিরোনামে থাকে। বিশেষ করে ভারতে এলেই তাঁরা যেভাবে বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে ছুটে যান, তা দেখে তাঁদের অগণিত ভক্তরা রীতিমতো মুগ্ধ হন। কিন্তু তাঁদের এই বারবার বৃন্দাবন ছুটে যাওয়াটা কি সত্যিই শুধুই আধ্যাত্মিক ভক্তির টানে? নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো মোটা টাকার আর্থিক লেনদেনের হিসেবনিকেশ? সম্প্রতি ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে বিরাট-অনুষ্কা বা বিরুষ্কার ওই আশ্রমে যাওয়ার ১টি অত্যন্ত বিস্ফোরক এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। সদ্য প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে তাঁর ১ জন তরুণ শিষ্যের রহস্যজনক মৃতদেহ আবিষ্কারের ঘটনার পরই এই বিতর্কিত দাবি সামনে আসায়, গোটা দেশজুড়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এই দাবির নেপথ্যের আসল সত্যিটা ঠিক কী?
সাধারণত ক্রিকেট বা অন্যান্য কাজ না থাকলে বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে লন্ডনেই বেশি সময় কাটান। কিন্তু ভারতে এলে তাঁরা প্রায় নিয়ম করেই বৃন্দাবনে ছুটে যান। এমনকি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঠিক পরদিনও বিরাট কোহলি সেখানে গিয়েছিলেন। প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে এই তারকা দম্পতির আধ্যাত্মিক আলোচনা এবং একাধিক বার্তালাপের ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুলভাবে ভাইরাল হয়েছে। কোহলি এবং অনুষ্কার এই বিনম্র ভক্তি এবং সাধাসিধে আচরণ দেখে নেটপাড়ার নাগরিকরা বারবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কিন্তু এবার তাঁদের সেই ভক্তি এবং ইমেজ নিয়েই ১টি বড়সড় বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি দীনেশ শর্মা, যিনি সাধু সমাজে ফলাহারি মহারাজ নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে প্রবল মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
১টি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ফলাহারি মহারাজ প্রকাশ্যে অত্যন্ত বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, কোনো আধ্যাত্মিক ভক্তির কারণে নয়, বরং ৫ কোটি টাকা নগদ অর্থের বিনিময়ে নাকি বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা প্রথমবার প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে এসেছিলেন। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি আরও জানান যে, রাজস্থানের ১টি বড় বেসরকারি সংস্থা এবং ১ জন বাড়ি প্রস্তুতকারক বা প্রোমোটার ব্যবসায়ী নাকি এই বিশাল অঙ্কের ৫ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। উল্লেখ্য, বিরাট কোহলি প্রথমবার ২০২৩ সালে সপরিবারে বৃন্দাবনের এই প্রখ্যাত আশ্রমে এসেছিলেন এবং মহারাজের আশীর্বাদ নিয়েছিলেন। ফলাহারি মহারাজের দাবি অনুযায়ী, সেই সময়েই নাকি এই টাকার বিপুল লেনদেনটি সম্পন্ন হয়েছিল। এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরাট-অনুষ্কার ভক্তদের সঙ্গে ওই মহারাজের অনুগামীদের ১টি তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে।
তবে এই পুরো বিষয়টিই আপাতত ফলাহারি মহারাজের ১টি একতরফা দাবি মাত্র। বিরাট কোহলি বা অনুষ্কা শর্মা যে সত্যিই ৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বা কোনো আর্থিক লেনদেন করেছেন, তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ এখনও পর্যন্ত কোথাও মেলেনি। ফলাহারি মহারাজও তাঁর এই গুরুতর অভিযোগ প্রমাণের জন্য কোনো বৈধ সরকারি নথি, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বা লিখিত চুক্তি প্রকাশ্যে আনতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে এই পুরোটাই তাঁর ১টি ভিত্তিহীন মৌখিক অভিযোগ বলে মনে করছেন অনেকেই, যা কোনোভাবেই আইনত প্রমাণ করা যায়নি। নেটদুনিয়ার একাংশের এবং কোহলির অগণিত ভক্তদের প্রবল দাবি, প্রেমানন্দ মহারাজ এবং কোহলি-অনুষ্কার মতো সেলিব্রিটিদের নামে ইচ্ছে করে কুৎসা করার জন্য এবং সস্তা প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন খবর ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কিত দাবির পাশাপাশি প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম সম্প্রতি অন্য ১টি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং রহস্যজনক ঘটনার কারণেও খবরের শিরোনামে রয়েছে। কিছুদিন আগেই ওই আশ্রমে দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণ নামে ২৫ বছর বয়সী ১ জন শিষ্যের রহস্যজনক মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জ আশ্রমের চারতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে ওই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, দীপকের মৃতদেহের অবস্থা অত্যন্ত বীভৎস ছিল এবং তাঁর যৌনাঙ্গ সম্পূর্ণভাবে কাটা ছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে ১টি রক্তমাখা গ্রাইন্ডার মেশিন, যা এই মৃত্যুকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে। ঠিক এমন ১টি চরম রহস্যজনক এবং চাঞ্চল্যকর আবহের মধ্যেই বিরাট-অনুষ্কাকে নিয়ে ওঠা এই ৫ কোটির বিস্ফোরক দাবি বৃন্দাবনের এই আশ্রমকে ঘিরে বিতর্ক আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।



