West Bengal DGP Siddh Nath Gupta: রাজ্যের প্রস্তাবে সায় কেন্দ্রের! আরও ৬ মাস বাড়ল ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্তের মেয়াদ

Published:

West Bengal DGP Siddh Nath Gupta: ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের রাশ সামলাবেন অভিজ্ঞ এই আইপিএস অফিসার

Kolkata: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ মহলে ঘটে গেল এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক রদবদল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের বর্তমান ডিরেক্টর জেনারেল বা ডিজিপি (DGP) এবং আইজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্তের চাকরির মেয়াদ আরও ৬ মাসের জন্য বৃদ্ধি করা হলো। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই প্রবীণ আইপিএস অফিসারের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য যে বিশেষ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তাতে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন থাকা ক্যাবিনেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি। কেন্দ্র এবং রাজ্যের এই যৌথ সম্মতির ফলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে আপাতত কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। উৎসবের মরশুমে পুলিশি প্রশাসনে এই ধরনের স্থিতিশীলতা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Mithun Chakraborty Cabinet Rank: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় মিঠুন চক্রবর্তী! উপদেষ্টা নিযুক্ত হলেন অভিনেতা

সিদ্ধনাথ গুপ্ত হলেন ১৯৯২ ব্যাচের ১ জন অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার। চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সাময়িকভাবে পীযূষ পাণ্ডেকে ভারপ্রাপ্ত ডিজির দায়িত্ব দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে গত মার্চ মাসে অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার সিদ্ধনাথ গুপ্তকে রাজ্য পুলিশের পূর্ণাঙ্গ ডিজি পদে সসম্মানে বসানো হয়। বিধানসভা নির্বাচনের সময় অত্যন্ত কড়া হাতে এবং নিরপেক্ষভাবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকা সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। মূলত সেই সাফল্যের কারণেই রাজ্য সরকার চাইছিল যে তিনিই অন্তত আরও কিছুদিন এই শীর্ষ পদের গুরুদায়িত্ব সামলান।

Advertisement Andaman Vibes

প্রাথমিক নিয়ম এবং বয়স অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ৩০শে এপ্রিল ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্তের স্বাভাবিক অবসরের সময়সীমা বা ডেট অফ রিটায়ারমেন্ট নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই সময় রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পুরোদমে চলায় এবং পুলিশ প্রশাসনে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন থাকায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে প্রথম দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ ৬ মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছিল। সেই বর্ধিত মেয়াদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৩১শে অক্টোবর তাঁর চাকরির মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রের তরফ থেকে ১টি নতুন নির্দেশিকা জারি করে তাঁর চাকরির মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ মাসের জন্য বাড়ানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো।

Bikash Ranjan Bhattacharya House Attacked: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা! ভাঙল জানলার কাচ, ফুঁসে উঠলেন প্রাক্তন মেয়র

কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের পাঠানো প্রস্তাবে এই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT)-এর তরফ থেকে জারি করা ওই নির্দেশিকায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অল ইন্ডিয়া সার্ভিস বা এআইএস (ডিসিআরবি) বিধির ১৬(১) ধারাটি বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিল করেই প্রবীণ আইপিএস অফিসার সিদ্ধনাথ গুপ্তের চাকরির এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি আইনিভাবে গৃহীত হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের শীর্ষ পদে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে অনেক সময় মতবিরোধ দেখা যায়, কিন্তু এক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের অভাবনীয় সমন্বয়ের ফলেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হলো।

Advertisement

এই নতুন নির্দেশিকার ফলে এটা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং আইজিপি হিসেবে সিদ্ধনাথ গুপ্তই নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তাঁর এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে রাজ্য পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে ১টি বড়সড় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আসন্ন উৎসবের মরশুম থেকে শুরু করে আগামী বছরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ তাঁর নেতৃত্বেই সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে রাজ্য প্রশাসন। ১ জন সৎ, দক্ষ এবং কড়া প্রশাসক হিসেবে পুলিশ মহলে তাঁর যে সুখ্যাতি রয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে। পুজোর মুখে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল যে, বৃহত্তর জনস্বার্থ এবং প্রশাসনিক সুবিধার ক্ষেত্রে সবপক্ষই একজোট হয়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

Advertisement S Bhattacharya

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img