Anti SIR Protest Bengaluru: ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম কাটার অভিযোগে ফ্রিডম পার্কে সিজেপির মেগা গণ-আদালত
Bengaluru: বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাগরিকের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে এবার সরাসরি রাজপথে আছড়ে পড়ল তীব্র জনরোষ। বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ঐতিহাসিক ফ্রিডম পার্কে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র ডাকে আয়োজিত মেগা গণ-আদালত বা পিপলস ট্রাইব্যুনাল রূপ নিল এক নজিরবিহীন সরকারবিরোধী জনসমুদ্রে। এই আন্দোলনের মঞ্চে একযোগে শামিল হয়েছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, প্রখ্যাত অভিনেতা তথা সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ এবং সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। গণ-আদালতের পাশাপাশি আয়োজিত অভিনব ‘চটি প্রতিবাদ’ বা চপ্পল বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা তৈরি হয় গোটা চত্বরে। কর্ণাটকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া সাধারণ মানুষ এদিন প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
এই প্রতিবাদ আন্দোলনের মূল আকর্ষণ ছিলেন বর্তমান প্রজন্মের প্রভাবশালী নেট-ব্যক্তিত্ব ধ্রুব রাঠী। জীবনে এই প্রথম কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক বা নাগরিক আন্দোলনে সশরীরে রাজপথে পা রাখলেন তিনি। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধ্রুব রাঠী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “এটি আমার জীবনের প্রথম রাজপথের প্রতিবাদ। গতকাল যখন আমি বেঙ্গালুরুতে নামি, তখন থেকেই সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল যে ধ্রুব রাঠী নাকি সরকার বদলাতে আসছে। নরেন্দ্র মোদি নিশ্চয়ই ভাবছেন যে তাঁর সঙ্গে শুধুমাত্র আমার একারই ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে, কিন্তু আসল সত্যিটা হলো গোটা দেশের সমস্যা রয়েছে মোদিকে নিয়ে।” নিজের বক্তব্যে তিনি বিজেপি ভোটারদের উদ্দেশেও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মনে করিয়ে দেন যে ভোট দেওয়া কোনো রাজনৈতিক অনুদান নয়, এটি সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার।

বক্তব্যের পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ার গলদ ও কারচুপি নিয়ে একটি বিশদ তথ্যনির্ভর রিপোর্ট প্রকাশ করেন ধ্রুব রাঠী, যা মূলত কর্ণাটকের প্রায় ১০০টি ভোটকেন্দ্রের বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের উদাহরণ টেনে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে প্রায় ৭০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম একতরফা তালিকা থেকে মুছে ফেলা হলো? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়া এই প্রশ্নের উত্তর আর কে দেবেন? তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিহারে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের নাম নিঃশব্দে কেটে দেওয়া হয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আগে কমিশন প্রকাশ্যে পর্যন্ত আনেনি। অপরদিকে উত্তরপ্রদেশে হঠাৎ করে ১৪ লক্ষ ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে যুক্ত করা হয়েছে, অথচ গোয়াতে স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকরা নাম তুলতে চাইলেও কমিশন তা সম্পূর্ণ আটকে দিয়েছিল।

গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ তুলে মঞ্চ থেকে তীব্র তোপ দাগেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি অভিযোগ করেন, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে মূলত আরএসএস এবং নাথুরাম গডসের বিপজ্জনক মতাদর্শ কাজ করছে। জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করে নাম বাদ দেওয়ার মতো ঘটনাকে গণতন্ত্রের নির্মম মৃত্যু বলে আখ্যা দিয়ে দীপকে বলেন, জওহরলাল নেহরু যেখানে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার উপহার দিয়েছিলেন, সেখানে বর্তমান তথাকথিত বিশ্বগুরু প্রকাশ্য ভোট চুরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ আসলে একটি বিভ্রান্তিকর স্লোগান মাত্র, এর আসল উদ্দেশ্য হলো হিটলারের মতো ‘এক দেশ, এক দল’ ব্যবস্থা কায়েম করা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ শতাংশ, আর সেই পরাজয়ের ভয় থেকেই দেশজুড়ে খসড়া পর্যায় থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে জয়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে।

বেঙ্গালুরুর এই গণ-আদালতের মঞ্চ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যুবসমাজ কোনোভাবেই রাজপথ ছাড়বে না। আন্দোলনকারীরা এদিন সমবেত কণ্ঠে স্লোগান তোলেন এবং কমিশনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বয়কটের ডাক দেন। সিজেপির অন্যতম আহ্বায়ক সৌরভ দাস নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “বেঙ্গালুরু রাস্তায় নেমে জবাব দিয়ে দিয়েছে, জ্ঞানু তোমার দিন শেষ।” আগামী ১০ই অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির যে দেশব্যাপী মেগা জমায়েতের ডাক রয়েছে, তার ঠিক ২ দিন আগে বেঙ্গালুরুর এই সুবিশাল জমায়েত এবং ধ্রুব রাঠীর রাজপথে সরাসরি অবতীর্ণ হওয়া জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী আন্দোলনের সুরকে আরও বহুগুণ চড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে দেশের ওয়াকিবহাল মহল।




