অ্যান্টি-সিইসি বিক্ষোভ ঘিরে রবিবার সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ শুনানি, বেআইনি আটক ও মেট্রো বন্ধ নিয়ে কড়া বার্তা
দিল্লিতে অ্যান্টি-সিইসি (anti-CEC) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং অন্যান্য বিধিনিষেধের প্রেক্ষিতে রবিবার এক বিশেষ শুনানিতে বসেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই শুনানি চলছে।
শুনানিকালে বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, "জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে আদালতের উদ্বেগ সাধারণ নাগরিক, পুলিশ অফিসার বা আইনজীবী—সবার জন্যই সমান।" লাইভ ল (Live Law) জানিয়েছে, তিনি আরও বলেছেন, "আদালত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভাবে না, সে পুলিশ অফিসার হোক, আইনজীবী হোক বা সাধারণ নাগরিক। জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে আদালতের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ সমানভাবে সংবেদনশীল। তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই।"
আদালত জানিয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের ব্যাপকতা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছে এবং এই বিষয়ে সরকার পক্ষের বক্তব্য শুনতে চায়। তবে বিচারপতি বাগচী এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশ অফিসারদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন অধিকার নেই, যা রাষ্ট্রের নির্দেশিকার ঊর্ধ্বে। এই বলে তিনি আইনজীবীকে সলিসিটর জেনারেলের সঙ্গে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে, রাজনৈতিক নেতাদের আটকের প্রতিবাদে সিনিয়র আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস (habeas corpus) পিটিশনেরও শুনানি করছে এই বেঞ্চ। পাশাপাশি, মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়েও আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি না হলে স্বাভাবিক মেট্রো ও রেল পরিষেবা চালু রাখতে হবে এবং বেআইনি আটক বন্ধ করতে হবে।

