Delhi Police Woman Shares Food: কনট প্লেসের প্রতিবাদের মাঝে মানবতার ছোঁয়া, মহিলা পুলিশকর্মীর মহানুভবতায় মুগ্ধ নেটদুনিয়া
New Delhi: রাজধানী দিল্লি জুড়ে যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, ঠিক সেই উত্তেজনাময় পরিবেশের মাঝেই মানবতার এক অপূর্ব ও হৃদয়স্পর্শী ছবি সামনে এল। গত ১১ই অক্টোবর দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় চলা তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেই এক অভাবনীয় মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। সিজেপি (CJP) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আন্দোলন চলাকালীন একজন ক্ষুধার্ত তরুণ আন্দোলনকারীর হাতে নিজের খাবার তুলে দিলেন দিল্লি পুলিশের এক সদয়হৃদয় মহিলা পুলিশকর্মী। এই ঘটনার একটি মিষ্টি ও আন্তরিক কথোপকথনের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটদুনিয়ায় সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। কঠোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উর্দিধারীদের মধ্যেও যে সংবেদনশীল ও মানবিক মন থাকতে পারে, এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয় ‘আয়ুন২৮’ হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা ওই ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে যে, প্রতিবাদী ওই তরুণ আন্দোলনকারী কনট প্লেস চত্বরে কর্তব্যরত দিল্লি পুলিশের মহিলা কর্মীদের কাছে এগিয়ে গিয়ে অত্যন্ত আপন সুরে তাঁদের আগের দিনের সাহচর্যের কথা স্মরণ করছেন। তরুণটি পুলিশকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলছেন যে তাঁদের মনে আছে কি না তাঁরা এর আগে কীভাবে তাঁকে খাবার দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। তরুণের এই সরল ও আকুল প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত মহিলা পুলিশকর্মী বিন্দুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ না করে অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে জানতে চান যে তিনি আজ কিছু খেয়েছেন কি না এবং তাঁর কোনো খাবারের প্রয়োজন আছে কি না। আন্দোলনকারী তরুণ যখন সম্মতিসূচক উত্তর দেন, তখন পাশে থাকা অন্য এক মহিলা পুলিশকর্মী এমন একটি প্রস্তাব রাখেন যা তরুণটিকে এবং ভিডিও দেখতে থাকা প্রতিটি নেটিজেনকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। ওই পুলিশকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলেন যে তাঁর নিজের ভাগের খাবারটি যেন ওই ক্ষুধার্ত তরুণকে দিয়ে দেওয়া হয় কারণ সেই মুহূর্তে তাঁর খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই।
মহিলা পুলিশকর্মীর এই অপ্রত্যাশিত ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রস্তাব পেয়ে তরুণ আন্দোলনকারী এতটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যে তিনি বারবার ওই পুলিশকর্মীকে ধন্যবাদ জানাতে থাকেন এবং কৃতজ্ঞতায় তাঁর গলা জড়িয়ে আসে। ভিডিওতে তরুণটি যখন কৌতূহলবশত জানতে চান যে ওই মানবিক পুলিশকর্মীর বাড়ি কোথায়, তখন তিনি জানান যে তাঁর আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের হাপুরে। ভিডিয়োটি শেষ করার ঠিক আগে তরুণটি ক্যামেরার লেন্সের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন, যা গোটা দেশের মানুষের চিন্তাভাবনাকে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন যে পুলিশ মানেই যে কেবল লাঠিপেটা বা দমনপীড়ন নয়, বরং তাঁরা প্রয়োজনে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতেও পিছপা হন না। এই ছোট্ট অথচ অত্যন্ত গভীর অর্থবহ মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই লাইক এবং কমেন্টের জোয়ার বয়ে গেছে এবং নেটাগরিকেরা ওই মহিলা পুলিশকর্মীর এই মহৎ গুণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধে পুলিশ প্রশাসনকে সবসময়ই অত্যন্ত কঠোর ও কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে যখন আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ বা আটকের মতো অপ্রতিকর ঘটনা খবরের শিরোনামে উঠে আসছে, ঠিক সেই সময়েই এই ধরনের মানবিক ঘটনা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্পর্কের মাঝের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিবাদের আদর্শ যাই হোক না কেন, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষুধার্ত অবস্থাকে উপলব্ধি করে নিজের খাবার ভাগ করে নেওয়ার এই মানসিকতা প্রমাণ করে যে মানবতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সমাজমাধ্যমে এই ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অধিকার রক্ষা কর্মীরাও মন্তব্য করেছেন যে প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি এ ধরনের সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ সমাজের বুকেই প্রকৃত শান্তির বার্তা বহন করে নিয়ে আসে।
সব মিলিয়ে, দিল্লির কনট প্লেসের রাজপথের এই ক্ষুদ্র অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে পেশাগত দায়িত্ব ও উর্দি যতই কঠোর হোক না কেন, মানুষের মনের ভেতরের দয়া ও মমত্ববোধ কখনও হারিয়ে যায় না। রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো জাগায় যে সমাজের মূল স্রোতে এখনও মনুষ্যত্ব বেঁচে রয়েছে। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিয়োটি শুধু ওই তরুণ আন্দোলনকারীর পেটের ক্ষিধেই মেটায়নি, বরং দেশের আপামর জনসাধারণের মনে এক গভীর ছাপ ফেলে গিয়েছে। দিল্লি পুলিশের ওই মহিলা কর্মীর এই নিঃস্বার্থ সাহায্য আগামী দিনে দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।




