Jhilam Gupta Bigg Boss Exit: গলব্লাডারের পাথরের যন্ত্রণায় কাবু, সকলের ভুল ধারণা ভাঙিয়ে বিগ বস থেকে বিদায় নিলেন ঝিলম গুপ্ত
Kolkata: জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে আচমকাই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলেন সকলের পরিচিত মুখ ঝিলম গুপ্ত। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান কেবল সহ-প্রতিযোগীদেরই নয়, বরং শোয়ের নিয়মিত দর্শকদেরও দারুণভাবে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ঝিলম নিজেই তাঁর এই অসময়ে শো ছেড়ে বেরিয়ে আসার আসল কারণ এবং ভেতরের সংগ্রামের কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গলব্লাডারে পাথর বা গল ব্লাডার স্টোন (Gallbladder Stone) সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শোয়ের ভেতরে থাকাকালীন পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায় যে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার বা অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় চিকিৎসকদের পরামর্শে। শারীরিক এই চরম অসুস্থতা এবং তীব্র পেটের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তাঁকে বাধ্য হয়ে রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ ছেড়ে বিদায় নিতে হয়েছে।
ঝিলম গুপ্ত অত্যন্ত আক্ষেপের সুরেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে বিগ বসের ঘরের ভেতরে থাকাকালীন দর্শকের একাংশ এবং সহ-প্রতিযোগীরা তাঁকে নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। অনেকেই তাঁকে ঘরের মধ্যে যথেষ্ট সক্রিয় না দেখে ‘অলস’ বা কাজ করতে না চাওয়া প্রতিযোগী বলে দেগে দিয়েছিলেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে বা ক্যামেরার বাইরে তাঁর শরীরের ভেতরে যে কতটা মারাত্মক যন্ত্রণা ও শারীরিক কষ্ট লুকিয়ে ছিল, তা কেউ বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেননি। ঝিলম জানান যে বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করার আগেই তাঁর গলব্লাডারে পাথরের সমস্যা ধরা পড়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শোতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শো চলাকালীন যখন তীব্র পেটের ব্যথা শুরু হতো, তখন তিনি পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েই দিন কাটাতেন। নিজের শরীরের এই গোপন লড়াই এবং কষ্টের কথা তিনি প্রতিযোগীদের সামনে খুব একটা প্রকাশ করতে চাননি, যার খেসারত হিসেবে তাঁকে দর্শকদের একাংশের ভুল ধারণার শিকার হতে হয়েছে।
রিয়্যালিটি শো ছাড়ার আগের মুহূর্তে বিগ বসের তরফ থেকেও ঝিলমের উদ্দেশে এক অত্যন্ত স্নেহশীল ও সম্মানজনক বার্তা দেওয়া হয়, যা শোয়ের পরিবেশকে আরও বেশি আবেগঘন করে তোলে। সোমবারের বিশেষ পর্বে বিগ বস অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও স্নেহের সুরে ঝিলমের উদ্দেশে বলেন যে আশা করা যায় তিনি এই ঘরের স্মৃতি থেকে নিজের প্রতি নতুন বিশ্বাস এবং অগণিত মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। তাঁর আগামী দিনগুলি যেন সাফল্য, আনন্দ এবং নতুন সম্ভাবনায় ভরে ওঠে এবং তিনি যেন খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন, এই কামনাও করা হয়। বিগ বসের এই মন ছোঁয়া কথা শোনার পর ঝিলম অত্যন্ত বিনম্রভাবে এবং নীচু স্বরে কেবল ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ঘর ছাড়ার ঠিক আগে তিনি সমস্ত সহ-প্রতিযোগীদের কাছ থেকে একটু সময় চেয়ে নেন এবং শেষবারের মতো প্রত্যেককে বুকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নেন।
সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে বিদায় নেওয়ার সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং কান্নায় ভাঙা এক পরিবেশ। ঝিলম যখন সবাইকে জড়িয়ে ধরছিলেন, তখন অনেকেরই চোখেই উপচে পড়ছিল জল এবং বেশ কয়েকজন প্রতিযোগী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন। কিন্তু সেই চরম শোক ও বিষাদের আবহেই এক অবিশ্বাস্য ও অভাবনীয় মুহূর্ত তৈরি হয়, যা উপস্থিত সকলকেই বাকরুদ্ধ করে দেয়। সবার সঙ্গে বসে বিদায় নেওয়ার ঠিক আগে ঝিলম হঠাৎ করেই গেয়ে ওঠেন তাঁর অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় আগমনী গান! ভেজা চোখে, গলার স্বরের সমস্ত কান্না চেপে ধরে তিনি যখন সুর মেলালেন, তখন বাকিরাও তাঁর সঙ্গে গলা মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে বিদায় জানান। গানে গানে এবং চোখের জলে ঝিলমের এই বিদায় পর্ব টেলিভিশন রিয়্যালিটি শোয়ের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও স্মারক একটি মুহূর্ত হিসেবে দর্শকের মনে গেঁথে গিয়েছে।
শো থেকে বেরিয়ে আসার পর বর্তমানে ঝিলম গুপ্ত চিকিৎসকদের কঠোর পরামর্শ এবং তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসাগত প্রক্রিয়া চলছে এবং তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথে বিগ বসের মতো একটি জনপ্রিয় জাতীয় মঞ্চ ছাড়তে হলেও তিনি যে পরিমাণ ভালোবাসা ও মানুষের সমর্থন অর্জন করেছেন, তা তাঁর আগামী দিনের কেরিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তাঁর অনুরাগীরা বিশ্বাস করছেন। ‘অলস’ তকমা পাওয়ার যে যন্ত্রণা তিনি নীরবে সহ্য করেছিলেন, তা আজ মানুষের সামনে স্পষ্ট হওয়ার পর অনুরাগীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভকামনা বার্তা পাঠାচ্ছেন। সব মিলিয়ে, ঝিলম গুপ্তের এই আকস্মিক প্রস্থানের মধ্য দিয়ে বিগ বসের চলতি মরশুমে এক অন্যরকম আবেগের অধ্যায় সমাপ্ত হলো, এখন শুধু অপেক্ষা তাঁর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবারও কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার।



