Sourav Das Ashutosh Ranka Jantar Mantar Arrest: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড টপকানোর জেরে তিহাড়ে ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা, জারি আদালতের নির্দেশ
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: জাতীয় রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ১৪৪ ধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যারিকেড টপকে প্রবেশের ঘটনায় এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। দিল্লি পুলিশ কমিশনারের পূর্বনির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা এবং যন্তর মন্তরে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর জারি হওয়া কড়া নিষেধাজ্ঞাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জেরে ককরোচ জনতা পার্টির একাধিক শীর্ষনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান দুই শীর্ষনেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনের জন্য সোজা তিহাড় জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যে জানা গিয়েছে যে, গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ জারি করেছিলেন যে এখন থেকে যন্তর মন্তরে আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আন্দোলনমূলক জমায়েত করা যাবে না। কিন্তু সেই সরকারি নির্দেশকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাতে ককরোচ জনতা পার্টির তিন শীর্ষনেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অজিঙ্ক শীণ্ডে হঠাৎ করেই যন্তর মন্তরের ব্যারিকেড টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, ওই নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে তাঁরা যন্তর মন্তরের চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই আকস্মিক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তৎপর হয়ে ওঠেন এবং গতকাল রাতেই তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকালে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ককরোচ জনতা পার্টির এই তিন নেতাই নির্দিষ্ট ১৪৪ ধারা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা সুকৌশলে লঙ্ঘন করেছেন। শুধু তাই নয়, পুলিশি অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় জোর করে ঢুকে পড়ে কৃত্রিমভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি, ইতিপূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ৫০ হাজার টাকার মুচলেখা বা বন্ড সই করানো হয়েছিল, তাঁরা সেই শর্তগুলিও স্পষ্টভাবে অমান্য করেছেন বলে পুলিশের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ককরোচ জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে পুলিশের এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধৃত নেতাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের বিচার্য বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে যে এই মামলায় যুক্ত তিন নেতার মধ্যে অজিঙ্ক শীণ্ডেকে পরবর্তীতে পিস বন্ডে বা মুচলেখায় সই করিয়ে সাময়িকভাবে রেহাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দলের বাকি দুই প্রধান শীর্ষনেতা তথা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের ক্ষেত্রে আদালতের বিচারক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে সরাসরি পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ের পরেই দুই নেতাকে কঠোর নিরাপত্তার মোড়কে দিল্লির তিহাড় জেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে যন্তর মন্তর চত্বরকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে এবং আন্দোলন নিষিদ্ধ করার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং তিহাড় জেল হেফাজতের নির্দেশ আগামী দিনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনকে যথেষ্ট পরিমাণে সতর্ক করবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আইনের শাসনকে অমান্য করে এই ধরনের ব্যারিকেড ভাঙার সংস্কৃতি গণতন্ত্রের পক্ষে কতটা হানিকর, তা নিয়ে বর্তমানে জাতীয় স্তরেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।




