Supreme Court EC notice: জ্ঞানেশ কাণ্ড ও আন্দোলন মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের, কড়া পর্যবেক্ষণে আদালত
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Nnদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের করা যৌথ আবেদন এবং দিল্লির আন্দোলন সংক্রান্ত তিনটি পৃথক মামলার শুনানি গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে এই হাইভোল্টেজ মামলাগুলির শুনানি চলছে, যা জাতীয় রাজনীতির অন্দরে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা নিয়ে চলা এই আইনি লড়াই এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়ে এসে পৌঁছেছে।

বিরোধীদের পক্ষ থেকে করা এই পিটিশনগুলিতে মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং রাজধানীর বুকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলন দমনে পুলিশ প্রশাসনের অতি-সক্রিয়তা ও কড়াকড়ির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর দিল্লির ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেভাবে রাজধানী শহরকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল এবং ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ রাখার চেষ্টা হয়েছিল, তা নিয়ে শীর্ষ আদালতে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বেঞ্চ নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের জবাব তলব করেছে। একই সঙ্গে যন্তর মন্তর চত্বরে স্থায়ীভাবে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
আজকের এই শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে মামলার আবেদনকারীদের আচরণ ও ভূমিকা নিয়েও কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। আদালতের তরফে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে আবেদনকারীদের নিজেদের আচরণের যথাযথ ব্যাখ্যা বা সাফাই দিতে হবে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীর করা একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে আইনি মহলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক ও বিচারিক ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থার কথা এর আগে বিরোধী নেতারা বললেও, বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) এবং ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীরা যে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিস পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত বড় একটি আইনি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং তাদের কাজকর্মের ওপর আদালতের এই সরাসরি নজরদারি আগামী দিনে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যখন রাজপথে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে চাপ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে তখন বিচারব্যবস্থার কড়া নজরদারি সরকারের নীতি ও কমিশনের সিদ্ধান্তগুলিকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিস জারির ফলে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। আগামী দিনে কমিশন ও দিল্লি পুলিশ এই নোটিসের জবাবে কী ধরনের হলফনামা বা সাফাই পেশ করে এবং সর্বোচ্চ আদালত সেই জবাবে কতটা সন্তুষ্ট হয়, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়। দেশের গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার এই দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকে কোন দিকে চালিত করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র দেশ।



