Neha Bora Released: তেরঙা যাত্রার পর মুক্ত নেহা বোরা, নতুন মামলায় ফেঁসে আদালতে পেশ হচ্ছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: রাজধানীর বুকে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত ‘লেহরা দো তিরাঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। কনট প্লেসে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসা (AISA)-র সভানেত্রী নেহা বোরাকে শনিবার ভোরে মুক্তি দেওয়া হলেও, কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নতুন করে আইনি জটে ফেলা হয়েছে। আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে আটক রাখার পাশাপাশি নতুন মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই একতরফা ও কঠোর পদক্ষেপে ছাত্র ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
Neha Bora Detained: কনট প্লেসে তেরঙা মিছিলে যাওয়ার পথে কেন দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন নেহা বোরা?
গত শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নির্ধারিত তেরঙা মিছিলে অংশ নিতে যাওয়ার পথেই মান্ডি হাউস চত্বর থেকে নেহা বোরাকে এবং ঝান্ডেওয়ালান এলাকা থেকে অভিজিৎ দীপকেকে প্রিভেনটিভ কাস্টডিতে নিয়েছিল পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখার পর দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার ভোরে নেহা বোরাকে মুক্তি দেয়। তবে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা হয়েছে, কারণ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১২৬ ও ১৭০ নম্বর ধারায় শান্তিভঙ্গের নতুন অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) আদালতে পেশ করা হচ্ছে। এর আগে গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর থেকে নামার সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা রুজু করা হয়েছিল।

মুক্তির পরপরই দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে নেহা বোরা এই আটককে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করে বলেন যে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ করা হচ্ছে এবং সারারাত ধরে থানায় আটকে রেখে নারীদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা আটক ব্যক্তিদের সূর্যাস্তের পর ছেড়ে দেওয়ার আইনি বিধান থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এছাড়া আটকের প্রথম কয়েক ঘণ্টা তাঁকে কোনো আইনি পরামর্শদাতা বা আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি জানান। এই ধরনের দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করে তিনি অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করার জোরদার দাবি তোলেন।
Abhijeet Dipke Detained: তেরঙা ওড়াও যাত্রার আগেই ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি রুখতে এবং রাজধানীর ট্রাফিক ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করেছিল। কনট প্লেস চত্বরের সেন্ট্রাল পার্ক ও সংলগ্ন এলাকা পুরোপুরি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং সেখানে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা ব়্যাফ (RAF) সহ অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। একপ্রকার অঘোষিত কড়াকড়ি ও কারফিউয়ের মতো পরিবেশ তৈরি করে মধ্য দিল্লিতে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে সরকারের বিরুদ্ধে চলা এই আন্দোলন দমাতে কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

সব মিলিয়ে, সিজেপি প্রধানের এই নতুন মামলা এবং আইসা নেত্রীর মুক্তির ঘটনা জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক ময়দানকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজের এই অনমনীয় আন্দোলন এবং অন্যদিকে পুলিশের কড়া আইনি পদক্ষেপ—এই দুইয়ের সংঘাতে আগামী দিনের রাজনীতি কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে সিজেপি প্রধানের ভবিষ্যৎ আইনি পরিণতি। গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।




