সাধারণ দিনের মতোই কাজের প্রস্তুতি নিয়ে সকাল ৭টার দিকে শুটিংয়ের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। কিন্তু তারপর আর তিনি ফিরে আসেননি। এই আকস্মিক অন্তর্ধানের খবরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা ক্রমাগত তাঁকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি।

অভিনেত্রীর স্বামী থেকে শুরু করে বোন পর্যন্ত প্রত্যেকেই তাঁর খোঁজ শুরু করেন। অবশেষে বিষয়টি পৌঁছায় পুলিশের কাছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে একটি নিখোঁজ ব্যক্তির মামলা হিসেবেই দেখছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাড়হিম করা তথ্য সামনে আসে। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ঝোপের আড়ালে একটি বস্তার ভেতর থেকে তাঁর দু’টুকরো ম*রদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই অভিনেত্রীর স্বামী এবং সুপরিচিত ব্যবসায়ী শাখাওয়াত আলী নোবেল-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেসময় তাঁরা জানান যে, অভিনেত্রী শুটিংয়ে গিয়ে আর ফেরেননি। এরপর পুলিশ জায়েদ খান নামের এক অভিনেতার দিকেও নজর দেয়, কারণ তাঁর সঙ্গে অভিনেত্রীর পুরনো মনোমালিন্য ছিল। তবে তাঁর সঙ্গে গত দুই বছর ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে জানা যায়। অবশেষে বাড়ির একটি গাড়ির ভেতর থেকে আসা ব্লিচিং পাউডারের তীব্র গন্ধ থেকে রহস্যের জট খোলে।

পুলিশ জানতে পারে, ম*রদেহটি গুম করার জন্য ওই গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল এবং প্রমাণ লোপাটের জন্যই ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো হয়। পাশাপাশি ম*রদেহসহ বস্তাটি বাঁধার জন্য ব্যবহৃত দড়িও উদ্ধার করা হয় গাড়ি থেকে। এই সমস্ত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিনেত্রীর স্বামী শাখাওয়াত আলীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের জেরার মুখে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করে নেন।

জানা যায়, মহামারীর কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির জেরে তাঁদের পরিবার তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছিল। ২০২২ সালের শুরুতে এক সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চূড়ান্ত বিবাদ হয়। রাগের মাথায় তিনি প্রথমে অভিনেত্রীকে মারধর করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে তাঁর প্রাণহানি ঘটান। পরবর্তীতে এক বন্ধুর সহায়তায় ম*রদেহটি গুম করা হয়। এই হাড়হিম করা ঘটনা নিয়ে আপনার কী প্রতিক্রিয়া? কমেন্ট করে আমাদের জানান।



