ঋতব্রতের সঙ্গে এক ফ্রেমে আরাবুল ও খয়রুল! ভাইরাল ছবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জোর জল্পনা

Published:

ভাঙড়ের রাজনীতিতে ফের নাটকীয় মোড়। আইএসএফ ত্যাগের পর এবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা গেল ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ খয়রুল ইসলামকে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তৃণমূলের কার্যালয়ে আরাবুল ইসলাম ও খয়রুল ইসলামের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ কারণ। আইএসএফ থেকে বেরিয়ে আসার পর আরাবুল ইসলাম কি ফের নিজের পুরনো দলে ফিরে যাচ্ছেন, নাকি এটি নিছকই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল— তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু বা তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবুও পঞ্চায়েত ও আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে এই বৈঠক অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, এই বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের অন্যতম বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী ফের তৃণমূলের মূল ধারায় ফিরে গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে ভুল বুঝিয়ে নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে স্পিকারকে সিক্রেট ব্যালটে আস্থা ভোট করানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।

একই সাথে রাজ্যে শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বাংলায় নতুন শিল্পনীতি রূপায়ণে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা শিল্পে গতি আনা, বিশেষ ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি, জমির জটিলতা মেটানো এবং সঠিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় প্রাক্তন বিধায়কের আত্মসহায়ক শেখর চৌধুরীর রহস্যজনক মৃ*ত্যু ও মারধরের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি সার্কিট হাউস সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুমতি নিয়েও জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সব মিলিয়ে একগুচ্ছ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। আরাবুল ইসলামের এই পদক্ষেপ কি ভাঙড়ের সমীকরণ বদলে দেবে? কমেন্ট করে আমাদের জানান।

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img