বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। মাসে মাসে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই টাকা পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পথে নামছেন মহিলারা। রেল অবরোধ থেকে শুরু করে বিডিও অফিস ঘেরাওয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। আর এবার এই বিক্ষোভকারী মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল জমানায় যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁদের সবাই যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ঝাড়াইবাছাইয়ের পর কেবলমাত্র যোগ্য মহিলারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই ‘যোগ্য-অযোগ্য’ যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন যে, মানুষের সাথে চূড়ান্ত প্রতারণা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যখন ফর্ম ফিলাপ করানো হয়েছিল, তখন কোনো শর্তের কথা বলা হয়নি বলে তাঁর স্পষ্ট দাবি।
বর্তমান সরকারের এই নীতির কড়া সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের আমলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর সরকার প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলাকে কোনো বৈষম্য ছাড়াই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দিত। এমনকি নির্বাচনের আগেও মার্চ মাসে এই টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মহিলাদের আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক রং, বর্ণ দেখে বেছে বেছে এই টাকা দিচ্ছে বলে তাঁর গুরুতর অভিযোগ।
যে সমস্ত মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বঞ্চিত মহিলাদের নিজেদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে তাঁদের জন্য বিকল্প কোনো সিস্টেম তৈরি করা হবে। পাশাপাশি তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ১০০ দিনের কাজ বা গ্রামীণ উন্নয়নের টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হতো। বর্তমানে তো কেন্দ্র থেকে টাকা আসছে, তাহলে সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে অন্নপূর্ণা যোজনায় সাধারণ মানুষকে টাকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমস্ত অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তৃণমূল নেত্রীর অর্থনীতি ও বাজেট বোঝার ক্ষমতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যের ঘাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ বা মহার্ঘ ভাতাও তাঁর আমলে বকেয়া রাখা হয়েছিল। সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমান শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে এই মুহূর্তে চরম তরজা অব্যাহত। এই রাজনৈতিক চাপানউতোর নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।



