ফ্রান্সে মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে ভারতের একটাই শর্ত ছিল ‘নো কোয়েশ্চেন’! মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য

Published:

ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভারতের তরফ থেকে মাত্র একটিই অনুরোধ করা হয়েছিল। আর সেটি হলো— সাংবাদিকদের যেন তাঁদের দুজনকে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া না হয়। সম্প্রতি ইকোনমিক টাইমস বিশ্বনেতা ফোরামে উপস্থিত হয়ে এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গত শনিবার আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সার্জিও গোর জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে ভারতের এই অনুরোধে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি নিজেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ করে দেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেসময় মোদি তাঁর পাশেই বসে ছিলেন। তবে মোদি তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়া সুকৌশলে এড়িয়ে যান। গোরের এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন ইউরোপ ও ওশেনিয়া সফরে গিয়ে মোদির সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে চলার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও বারবার প্রশ্ন উঠছে।

রাষ্ট্রদূত গোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, গত ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে দীর্ঘ ১৬ মাস পর প্রথম মুখোমুখি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় ট্রাম্প তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনো বিশেষ অনুরোধ আছে কি না। উত্তরে গোর জানিয়েছিলেন যে, ভারতীয় পক্ষ কোনো পূর্ণাঙ্গ সংবাদ সম্মেলন চায় না এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে চায় না। ট্রাম্প এতে সম্মতি দিলেও, মোদি নিজের লিখিত বক্তব্য পাঠ করার পরেই ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। সেসময় ট্রাম্প একাই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন এবং মোদিকে কেউ কোনো প্রশ্ন করেননি।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে গিয়ে মোদির সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি না হওয়ার বিষয়টি বারবার চর্চায় উঠে এসেছে। এর এক মাস আগে ইউরোপ সফরের সময়ও অসলো এবং আমস্টারডামে স্থানীয় সাংবাদিকেরা ভারতীয় কূটনীতিকদের কাছে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নরওয়ের এক সাংবাদিক সরাসরি মোদিকে প্রশ্ন নিতে চান কি না জিজ্ঞেস করলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এমনকি নিউজিল্যান্ড সফরেও সংবাদ সম্মেলন না করার কারণ হিসেবে ভারতীয় কূটনীতিকরা অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, ভারতের বেশিরভাগ ভোটার গ্রামীণ এলাকার এবং তাঁরা সরাসরি যোগাযোগ পছন্দ করেন, কোনো সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতায় নয়। যদিও এর আগে ২০২৩ সালের জুনে ওয়াশিংটন সফরে হোয়াইট হাউসের প্রোটোকল মেনে মোদি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক এই দাবি ফের একবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর এড়িয়ে চলা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল। এই বিষয়ে আপনার কী মত? কমেন্ট করে জানান।

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img