শত্রুর বুক কাঁপাতে এবার ভারতীয় সেনার হাতে আসতে চলেছে ‘শের’! আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হতে চলেছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক একে-২০৩ (AK-203) রাইফেল। ইতিমধ্যেই আগামী এক মাস ধরে পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোর জন্য ১০টি প্রোটোটাইপ রাইফেল ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠির ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেড (আইআরআরপিএল)-এর কারখানায় তৈরি এই অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যপূরণে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরআরপিএল-এর প্রধান নির্বাহী কর্তা (CEO) মেজর জেনারেল এস কে শর্মা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কারখানার ভেতরে এই প্রোটোটাইপ রাইফেলগুলির ৩,০০০ বার পরীক্ষামূলক ফায়ারিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের মাটিতেই অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি একটি বিরাট সাফল্য। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এটি শুধুমাত্র রাইফেলের কিছু যন্ত্রাংশের স্থানীয়করণ নয়, বরং সম্পূর্ণ ‘এন্ড-টু-এন্ড’ বা আদ্যোপান্ত ভারতীয়করণ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সেনাকে হস্তান্তর করা এই ১০টি প্রোটোটাইপ ইউনিটকে এখন একাধিক কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারিক পর্যায়ের পরীক্ষা, ডিরেক্টর জেনারেল অফ কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স-এর (DGQA) মূল্যায়ন, মিলিটারি ইনফ্যান্ট্রি ট্রায়ালস এবং গ্রীষ্মকালীন ও চরম উচ্চতায় বা পাহাড়ি পরিবেশে এর কার্যক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা!

প্রসঙ্গত, ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই একে-২০৩ রাইফেল উৎপাদন প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। বর্তমানে আমেঠির কারখানায় অত্যন্ত জোরকদমে দেশীয় প্রযুক্তিতে এই অত্যাধুনিক রাইফেলের উৎপাদন চলছে এবং কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় সেনার আধুনিকীকরণে এই ‘শের’ যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের এই অভাবনীয় অগ্রগতি নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।



