ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ক্ষমতা হারালেও দাপট বিন্দুমাত্র কমেনি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর! তাঁর ‘দাদাগিরি’ যে ষোল আনা জারি রয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণ হলো। কাজ শেষের পর পাওনা টাকা চাইতে যাওয়ায় এক কাঠমিস্ত্রিকে বাড়িতে ডেকে বেধড়ক মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠল এই তারকা নেতার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই বেহালা থানায় সোহমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত কাঠমিস্ত্রি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী ওই কাঠমিস্ত্রির নাম রাজ কাপুর শর্মা। মাস দেড়-দুই আগে সোহম চক্রবর্তীর একটি ফ্ল্যাটে আসবাবপত্রের কাজ করানোর জন্য তাঁর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল রাজের। কাজ শুরুর আগে অগ্রিম হিসেবে তাঁকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে কাজ শেষ হলে বাকি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। রাজের দাবি, সম্প্রতি সেই ফ্ল্যাটের কাজ শেষ হয়েছে। তাই নিজের পাওনা প্রায় ৮০ হাজার টাকা চাইতে তিনি সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগ, সোহম বাকি টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন এবং জানিয়ে দেন যে তিনি আর কোনো টাকাপয়সা দেবেন কক্ষনো দেবেন না।
রাজ কাপুর শর্মার অভিযোগ, রবিবার সোহমের এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে ফোন করে অভিনেতার বাড়িতে যেতে বলেন। সেইমতো তিনি সোমবার সেখানে যান। কিন্তু টাকা দেওয়ার নাম করে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। এরপর আর ধৈর্য রাখতে না পেরে রাজ তাঁর বকেয়া টাকা চাইলে প্রথমে তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। এরপর জোর করে তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে ব্যাপক মারধর করে রীতিমতো ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই চরম অপমানের পরই সোজা বেহালা থানায় গিয়ে সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মারধরের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই কাঠমিস্ত্রি। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিনেতার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সোহমের এই ধরনের আচরণ নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিধায়ক থাকাকালীন সল্টলেকের এক হোটেলে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে মালিক ও কর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য তিনি নিজের আচরণের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পরও তাঁর এই আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। এবার তিনি কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।



