ফের নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় কেঁপে উঠল অসম। গুয়াহাটির একটি হোমস্টে-তে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে রাতভর গণধ*র্ষণের মতো ঘৃণ্য অভিযোগ উঠল পাঁচজনের বিরুদ্ধে। পাশবিক এই নির্যাতনের পর নিগৃহীতা কিশোরীকে শুক্লেশ্বর ঘাটের কাছে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫ জনকে আটক করেছে দাদরা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল থেকেই ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। গোয়ালপাড়ার পরমেশ্বর নাথ নামের এক যুবক ওই নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে গুয়াহাটির একটি হোমস্টে-তে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেখানেই সারারাত ধরে চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় ওই কিশোরীর ওপর। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পরমেশ্বর নাথের পাশাপাশি আরও চারজনের সরাসরি যোগ থাকার প্রমাণ মিলেছে, যাদের মধ্যে দু’জন ওই হোমস্টে-তেই কাজ করত। অমানবিক নির্যাতনের পর অচৈতন্য ওই কিশোরীকে শুক্লেশ্বর ঘাটের কাছে রাস্তায় ফেলে দেয় তারা।
অসম পুলিশের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, গত ২৩ অগাস্ট হাজো থানার অন্তর্গত দাদারা পুলিশ ফাঁড়িতে নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে ওই নাবালিকার পরিবার। এরপর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৮৭ নম্বর ধারায় (মামলা নং ৪১৩/২০২৬) মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। ২৪ অগাস্ট ভোর ৫টা ৪৭ মিনিট নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দাদারা আউটপোস্টের ইন-চার্জ নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুয়াহাটির একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছান এবং তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়ার পর কিশোরীর বয়ান এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই মামলায় পকসো (POCSO) আইনের ৬ ও ১৭ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিগৃহীতা কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া কামরূপের এসএসপি (SSP) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকরা ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন।
প্রসঙ্গত, নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে এই মুহূর্তে কার্যত প্রশ্নের মুখে অসম প্রশাসন। কারণ চলতি অগাস্ট মাসেই অসমের হাইলাকান্দি জেলায় আরও এক কিশোরীকে ধ*র্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। পিকনিক সেরে ফিরে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বাড়ি থেকেই মেয়ের বিকৃত ম*রদেহ উদ্ধার করেন। একের পর এক এমন নারকীয় ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



