২১ জুলাইয়ের পর এবার ২৮ আগস্ট! তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ করতে চেয়েছিল তৃণমূলের দুই বিবাদমান গোষ্ঠী— ‘কালীঘাট’ শিবির এবং ‘ঋতব্রত’ শিবির। কিন্তু কাউকেই সেখানে সভা করার অনুমতি দিল না আদালত। মঙ্গলবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অবিভক্ত তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী ওই স্থানে এবার কোনো শিবিরই সভা করতে পারবে না। দুই শিবিরের জন্য শহরের বুকে পৃথক দুটি জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ক্যাথিড্রাল রোডে। ঠিক যেখানে তাঁরা ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করেছিলেন, সেখানেই এবার ছাত্র সমাবেশ হবে। তবে সভার জন্য কড়া শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত। জানানো হয়েছে, ওই দিনের সভায় লোকসংখ্যা ১,৫০০ জনের বেশি হতে পারবে না। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে সভা শেষ করতে হবে এবং যান চলাচলের জন্য রাস্তার একটি লেন অবশ্যই খোলা রাখতে হবে।
গান্ধী মূর্তি না পাওয়া নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী জানিয়েছেন, “আমরা চেয়েছিলাম গান্ধী মূর্তির পাদদেশ। কিন্তু আদালত আমাদের ক্যাথিড্রাল রোড দিয়েছে। তবে অনুমতি যে প্রান্তেই দিক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মঞ্চে থাকবেন, সেখানে ছাত্রছাত্রীরা ভিড় করবেই।” ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পুলিশের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরকে সভা করার জন্য ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি দুই শিবিরকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বুধবারের মধ্যেই ২০ জন করে স্বেচ্ছাসেবকের নামের তালিকা জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ভোটে হারের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। দল স্পষ্টতই দুই শিবিরে বিভক্ত এবং দুই পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুই শিবিরে ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে নতুন মুখ আনা হয়েছে। একুশে জুলাইয়ের পর এবার জোড়া ফুলের দুই শিবিরের জোড়া ছাত্র সমাবেশে কার পাল্লা ভারী থাকে, কোন সভায় ভিড় বেশি হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির কারবারিদের।



