রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিতে যখন অনেকেই নারাজ ছিলেন, তখন বঙ্গ বিজেপির হাল ধরেছিলেন সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্তির কয়েক মাসের মধ্যেই হওয়া পুরসভা নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল গেরুয়া শিবির। রাজ্যের শতাধিক পুরসভার নির্বাচনে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক নেমে এসেছিল মাত্র ১৩ শতাংশে। আসন সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও শতাংশের নিরিখে বামেদের সম্মিলিত ভোটের চেয়েও পিছিয়ে পড়েছিল বিজেপি। সেই সময় খোদ অমিত শাহ নিউটাউনের এক দলীয় কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে।’’
অমিত শাহের সেই বার্তার পর সুকান্ত মজুমদারের সভাপতিত্বেই বাংলায় বিজেপির সেই ‘শূন্য থেকে শুরু করা’র লড়াই শুরু হয়। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির ভোট ১৩ শতাংশ থেকে একলাফে বেড়ে ২৩ শতাংশে পৌঁছয়। পঞ্চায়েতের তিন স্তর মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার আসনে জয়লাভ করে তারা, যা ছিল বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সম্মিলিত আসনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশের অধিকাংশ রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির আসন সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১২-তে নেমে আসে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই নির্বাচনে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির হার ফের ৩৯ শতাংশে পৌঁছে যায়, যা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটপ্রাপ্তির চেয়েও এক শতাংশ বেশি ছিল।

লোকসভা নির্বাচনের পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পান সুকান্ত মজুমদার। বিজেপির ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারণে তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়তে হবে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন শমীক ভট্টাচার্য। গত এক বছরে রাজ্য রাজনীতিতে অনেক জল গড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে বিরোধী আসন থেকে বিজেপি রাজ্যের শাসক দলে পরিণত হয়েছে।
তবে শাসক দলে পরিণত হলেও সাংগঠনিক স্তরে যে এখনও বেশ কিছু খামতি রয়েছে এবং অনেক কাজ বাকি, তা ভালোমতোই জানেন বিজেপি নেতৃত্ব। সামনেই বড় চ্যালেঞ্জ। কলকাতা ও হাওড়ার পর আগামী ২০২৭ সালে রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০২৮ সালে রয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর সেই কারণেই আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে দ্রুত দলের সংগঠন গুছিয়ে নিতে রাজ্য বিজেপির ওজনদার নেতাদেরকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।



