এসেল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের বিপুল পরিমাণ ঋণমুকুবের একটি প্রস্তাব সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলটি (NCLT)-তে। আর এই সিদ্ধান্তের জেরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা গিয়েছে, ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন সুভাষ চন্দ্র। কিন্তু NCLT-র অনুমোদিত ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁকে এখন মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা মেটাতে হবে। এর মধ্যে ৬.২৫ কোটি টাকা পাওনাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে এবং বাকি ২৫ লক্ষ টাকা আইনি প্রক্রিয়ার খরচ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে, এটি প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশ ঋণমুকুব! অর্থাৎ, পাওনাদাররা প্রতি ১,০০০ টাকার বদলে মাত্র ২৮ পয়সা ফেরত পাবেন।

এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতির প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে অন্যতম পাওনাদার এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্ক। তারা আগেই এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ৮০.৮১ শতাংশ পাওনাদার এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় এটি আইনি অনুমোদন পেয়ে যায়। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যাঙ্কের মোট পাওনা ছিল দাবিকৃত অর্থের ৩.২ শতাংশ। এই ঋণটি মূলত এইচডিএফসি লিমিটেডের থেকে নেওয়া হয়েছিল, যা পরে ব্যাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। ব্যাঙ্ক প্রথম থেকেই এই সেটেলমেন্টের বিরোধিতা করে আসছে। এনসিএলটি-র এই আদেশের বিরুদ্ধে এবার আপিল ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলএটি (NCLAT)-এর দ্বারস্থ হওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে এইচডিএফসি।

প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে শুরু হলো এই বিপুল ঋণের আইনি লড়াই? জানা যায়, বিবেক ইনফ্রাকন নামের একটি সংস্থাকে ১৭০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যার ব্যক্তিগত গ্যারান্টার ছিলেন খোদ সুভাষ চন্দ্র। সেই ঋণ শোধ না হওয়ায় ২০২২ সালে ইন্ডিয়াবুলস হাউজিং ফিন্যান্স (বর্তমানে সম্মান ক্যাপিটাল) এনসিএলটি-র দ্বারস্থ হয়। ২০২৪ সালে সেই আবেদন গৃহীত হওয়ার পর দেখা যায়, সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে পাওনাদারদের মোট দাবির পরিমাণ লাফিয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এলআইসি হাউজিং ফিন্যান্সের মতো সংস্থাও এই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে। তাদের পাওনা ১,৩২২.৩৯ কোটি টাকার বদলে তারা ফেরত পাবে মাত্র ৩৮.০৯ লক্ষ টাকা। এনসিএলটি-র মূল বেঞ্চের দুই সদস্যের মধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে মতবিরোধ থাকায় তৃতীয় সদস্য হিসেবে নীলেশ শর্মাকে নিযুক্ত করা হয়। গত ২৫ অগস্ট তিনি এই পরিকল্পনার পক্ষেই রায় দেন। এনসিএলটি-র যুক্তি হলো, পাওনাদারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যখন একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছে, তখন ট্রাইব্যুনাল সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক যদি এনসিএলএটি-তে আপিল করে, তবে আগামী দিনে এই বিতর্কিত ঋণমুকুব মামলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরো পড়ুন: বিজেপির নতুন টিমের সঙ্গে সাড়ে চার ঘণ্টা বৈঠক প্রধানমন্ত্রী মোদীর, যুবদের কাছে পৌঁছনোর বিশেষ বার্তা



