আজ রাতের আকাশে দৃশ্যমান হতে চলেছে বছরের অন্যতম বড় আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। জ্যোতিষশাস্ত্র এবং হিন্দু ধর্মমতে, গ্রহণকে কখনোই শুভ দৃষ্টিতে দেখা হয় না। মনে করা হয়, এই সময়ে পরিবেশে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব প্রবল হয়ে ওঠে। তাই অশুভ প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে জ্যোতিষীরা গ্রহণের সঠিক সময় এবং নিয়মকানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক আজকের চন্দ্রগ্রহণের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং এই সময়ে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়।
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক চন্দ্রগ্রহণের নির্দিষ্ট সময়:
• গ্রহণ শুরু হবে: আজ রাত ১০টা ১৫ মিনিটে।
• গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়: রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে।
• গ্রহণ শেষ হবে: মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে।
• সূতক কাল শুরু: চন্দ্রগ্রহণের ঠিক ৯ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ আজ দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে সূতক কাল শুরু হয়ে যাবে, যা গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত চলবে।
কোন সময়ে কী করবেন না (ক্ষতিকর কাজ):
শাস্ত্র মতে, সূতক কাল শুরু হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের পর থেকে কোনও শুভ কাজ, পুজো-অর্চনা বা মন্দিরে প্রবেশ করা উচিত নয়। রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মূল গ্রহণ চলাকালীন কোনও খাবার রান্না করা বা খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। ক্ষতিকর রশ্মি খাবারে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এই সময়ে ঘুমানো অত্যন্ত অশুভ। গর্ভবতী মহিলাদের রাত ১০টার পর থেকে বাড়ির বাইরে বেরোনো বা ছুঁচ, কাঁচি, ছুরির মতো কোনও ধারালো বস্তু ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এছাড়া, গ্রহণ চলাকালীন আর্থিক লেনদেন বা নতুন ব্যবসার সূচনা করলে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
আরো পড়ুন: ৬ বছরে ১৭ বার! জোড়া ধর্ষণ ও খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত রাম রহিম ফের ২১ দিনের প্যারোলে মুক্ত
কোন সময়ে কী করলে ভালো (শুভ কাজ):
গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে কিছু বিশেষ কাজের কথা বলা হয়েছে। সূতক কাল শুরু হওয়ার আগেই (দুপুর ১টার আগে) রান্না করা খাবারে বা পানীয় জলে তুলসী পাতা দিয়ে রাখা উচিত। রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যখন গ্রহণ চলবে, তখন ঘুমানোর বদলে ঈশ্বরের নাম জপ করা, মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র বা গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করা উচিত। এতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কেটে যায়। মধ্যরাত ১টা ৩০ মিনিটে গ্রহণ শেষ হওয়ার পর অবশ্যই স্নান করে শুদ্ধ হওয়া উচিত এবং সারা ঘরে গঙ্গাজল ছেটানো প্রয়োজন। গ্রহণ শেষে বা পরের দিন সকালে স্নান সেরে গরিব-দুঃখীদের সাধ্যমতো দানধ্যান করলে গ্রহণের সমস্ত কুপ্রভাব কেটে গিয়ে জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি ফিরে আসে।



