রঙের কাজের নাম করে ডেকে যুবতীকে ধ*র্ষণ! কানাইপুরে গ্রেফতার অভিযুক্ত, হাসপাতালে চরম হয়রানির অভিযোগ

Published:

হুগলির কোন্নগর কানাইপুর এলাকায় এক যুবতীকে রঙের কাজের নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠল। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রতাপ সাঁতরা নামে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতার সাহসিকতা এবং পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্ত ধরা পড়লেও, উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নির্যাতিতাকে দীর্ঘক্ষণ বিনা চিকিৎসায় বসিয়ে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী হুগলির বাসিন্দা ওই যুবতী আজই প্রথম রঙের কাজে গিয়েছিলেন। কানাইপুরের একটি বাড়িতে রঙের কাজের জন্য তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল অভিযুক্ত প্রতাপ সাঁতরা। যুবতীর অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ওই বাড়িতে কাজ চলাকালীন দুজন কল মিস্ত্রি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা কাজ শেষ করে চলে যেতেই বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়। সেই সুযোগেই অভিযুক্ত প্রতাপ তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে যুবতীকে টাকার লোভও দেখায় সে। কিন্তু নির্যাতিতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাকার থেকে সম্মান অনেক বড়। তিনি টাকার টোপ প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি কানাইপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

আরো পড়ুন: উত্তরপাড়ায় বাজি ও জুয়া চক্রের পর্দাফাঁস! পুলিশের জালে ২, উদ্ধার নগদ সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ও আড়াই কোটির সোনা 

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ পদক্ষেপ করলেও, চরম হয়রানির শিকার হতে হয় উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। খবর পেয়ে নির্যাতিতার স্বামী কানাইপুরে ছুটে আসেন এবং স্ত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উত্তরপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থার চিত্র ফের প্রকট হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা থেকে পৌনে ন’টা পর্যন্ত চরম শারীরিক ও মানসিক কষ্ট নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় ওই যুবতীকে। হাসপাতালে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় এই দীর্ঘ সময় বিনা চিকিৎসায় বসে থাকতে হয় তাঁকে। অবশেষে চিকিৎসক এলে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু হয়।

এই ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ‘অভয়া মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিরা। তাঁরা হাসপাতালের এই অব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভয়া মঞ্চের এক প্রতিনিধি জানান, “কীভাবে একজন নির্যাতিতাকে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা থেকে পৌনে ন’টা পর্যন্ত চিকিৎসক নেই বলে বসিয়ে রাখা হতে পারে! মেয়েটি কষ্ট পাচ্ছে, আর এভাবেই হাসপাতাল চলছে।” তাঁরা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেন। পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত প্রতাপ সাঁতরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে একজন নির্যাতিতার প্রতি এমন অমানবিক আচরণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Sougata Raha
Sougata Raha
রাজ্য ও জেলার প্রতিদিনের খবরাখবর সংগ্রহ এবং ক্রাইম বিটের দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img