মহারাষ্ট্রের সরকারি হস্টেলগুলিতে আদিবাসী পড়ুয়াদের দুরবস্থা এবং অমানবিক নিয়মের বিরুদ্ধে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে হস্টেলে ফিরলে ছাত্রীদের বাধ্যতামূলক ‘প্রেগন্যান্সি টেস্ট’ বা গর্ভাবস্থা পরীক্ষার মতো অবমাননাকর নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে একটি চিঠি লিখেছেন। গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের অধিকারের দাবিতে অনশনে বসেছেন ওই আদিবাসী পড়ুয়ারা।
সম্প্রতি পুণেতে আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানেই এই আন্দোলনকারী আদিবাসী পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পড়ুয়াদের দেওয়া স্মারকলিপি এবং মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠির কপি শেয়ার করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা আদিবাসী পড়ুয়ারা শহরে পড়াশোনার জন্য শুধুমাত্র সরকারি হস্টেলগুলির ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু সেখানে তাঁদের চরম হয়রানি ও অমানবিকতার শিকার হতে হচ্ছে।
চিঠিতে মূলত কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছেন রাহুল। প্রথমত, হস্টেলে থাকার জন্য অন্যায্যভাবে ৩০ বছরের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যে সমস্ত পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষা বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁরা মাঝপথেই চরম সঙ্কটে পড়েছেন। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি হলো, দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কোনো ছাত্রী হস্টেলে ফিরলে তাঁকে নিজের ‘ফিটনেস’ প্রমাণ করতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট এবং অন্যান্য মেডিক্যাল টেস্ট করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর কথায়, এটি নারীদের মর্যাদা এবং মানবতার ওপর সরাসরি হামলা। এর মাধ্যমে ছাত্রীদের আগে থেকেই ‘দোষী’ সাব্যস্ত করার এক অপমানজনক মানসিকতা প্রকাশ পাচ্ছে।
এছাড়াও হস্টেলগুলির বেহাল দশা নিয়ে চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। খাবার, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসার চূড়ান্ত অভাব রয়েছে সেখানে। সাপের কামড়ে পড়ুয়াদের আহত হওয়া বা প্রাণ হারানোর মতো ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাহুলের স্পষ্ট আবেদন, এই পড়ুয়ারা কোনো খয়রাতি চাইছেন না, তাঁরা নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবি করছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী যেন অবিলম্বে নিজে উদ্যোগী হয়ে পড়ুয়াদের এই সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করেন।



