হাতে বাকি আর মেরেকেটে মাস দেড়েক। ঢাকে কাঠি পড়ার মুখে শারদোৎসবে মাতোয়ারা হতে প্রস্তুত হচ্ছে আপামর বাঙালি। কিন্তু এ বছর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দুর্গাপুজো ঘিরে প্রশাসনিক মহলে বইছে নতুন হাওয়া। সেই আবহেই আগামী ৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় দুর্গাপুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠক থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। নবান্নের এই ঘোষণার পরই পুজো কমিটিগুলির অনুদান ও সুযোগসুবিধা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের আগে তৃণমূল জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছর আগস্ট মাসেই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক সারতেন। সেই মঞ্চ থেকেই বিদ্যুৎ বিলে ছাড়, দমকলের নো-অবজেকশন ফি মকুবের পাশাপাশি সরকারি আর্থিক সহায়তার অঙ্ক ঘোষণা করা হতো। বিগত বছরটিতেও রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এবার বিজেপি বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্লাব কর্তাদের প্রধান প্রশ্ন, নতুন সরকার কি সেই আর্থিক অনুদানের ধারা বজায় রাখবে?
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্গাপুজো আরও সনাতনী ও সুসংগঠিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বঙ্গ বিজেপির তরফে। এমনকি এবার মহাঅষ্টমীর অঞ্জলি দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতায় আসার সম্ভাবনাও প্রবল হচ্ছে। ফলে কেবল অনুদানই নয়, পুজোর সময়ে চারদিনের ট্রাফিক পরিচালনা, বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা এবং পর্যটন ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঠিক কী নির্দেশ দেন, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও আমলা মহলের।
বাঙালির এই শ্রেষ্ঠ উৎসবের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের পর্যটন, কোটি কোটি টাকার ব্যবসা এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান। ফলে উৎসবের মরশুমে নতুন সরকার কতটা নীতিগত ছাড় দেবে বা নতুন কী কী বিধিনিষেধ আনবে, তা এই বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে পুজো কমিটিগুলির যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে নবান্নের ৭ সেপ্টেম্বরের এই বৈঠক যে এক নতুন মোড় হতে চলেছে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।



