Bigg Boss Bangla: বিগ বসের ঘরে কান্নাকাটি নিরঞ্জনের! কাজ না করার মারাত্মক অভিযোগ সোনামণি-তনুশ্রীর
KOLKATA: Bigg Boss Bangla বা বিগ বস বাংলা সিজন ৩-এর অন্দরে এখন আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ দশ বছর পর পর্দায় ফেরা এই জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ের পরতে পরতে এখন কেবলই বিতর্ক, ঝগড়া এবং নিত্যনতুন কূটকচালি। আজ যাঁদের মধ্যে গলায় গলায় ভাব দেখা যাচ্ছে, আগামীকাল তাঁদের মধ্যেই যে তুমুল ঝগড়া বাঁধবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সম্প্রতি বিগ বসের ঘরের রসায়নে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে। একদিকে যেমন ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিদের দাপট চলছে, অন্যদিকে তেমনই পুরনো প্রতিযোগীদের নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কগুলো ভাঙতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ‘লাফটারসেন’ খ্যাত নিরঞ্জন মণ্ডল এবং ঝিলম গুপ্তর সঙ্গে এবার চরম সংঘাত বাঁধতে দেখা গেল সোনামণি সাহা এবং তনুশ্রী রায় দাসের। ঘরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই চার প্রতিযোগীর মধ্যে যে অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়েছে, তা এবার প্রকাশ্যে চলে এল। এর জেরে বিগ বসের ঘরের সকাল শুরু হচ্ছে কোনো প্রতিযোগীর চোখের জলে, আবার কোনো প্রতিযোগীর গসিপ বা পরচর্চায়। শোয়ের এই টানটান উত্তেজনার পরিস্থিতি দর্শকদের আরও বেশি করে টিভির পর্দার সামনে আটকে রাখছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বিগ বস হাউজের একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি বিগ বসের ঘর থেকে রান্নার গ্যাস ওভেন বার্নারটি হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়, যা নিয়ে তুমুল অশান্তি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে জানা যায় যে, ঘরের অন্যান্য সদস্যদের একটা মোক্ষম শিক্ষা দেওয়ার জন্যই নিরঞ্জন মণ্ডল নিজে এই বার্নারটি লুকিয়ে রেখেছিলেন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তিনি নিজের এই ভুল স্বীকার করে নেন এবং বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও তাঁকে এই কাজের জন্য বেশ কড়া কথা শুনিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই মিটে যায়নি। ওই ঘটনার পর থেকেই বিগ বস হাউজের একাধিক সদস্য নিরঞ্জনের সঙ্গে কথা বলা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। এই বয়কটের কারণে এবং সকলের তরফ থেকে আসা মানসিক চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নিরঞ্জন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাউজের ক্যামেরার সামনে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। তাঁর এই কান্না দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। আসলে বিগ বসের ঘরের মতো একটি আবদ্ধ জায়গায় কেউ যদি কথা না বলে বা একঘরে করে রাখে, তবে তা মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে, আর নিরঞ্জনের এই কান্নাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

নিরঞ্জনকে এ দিন সকালে কাঁদতে দেখে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান আরেক প্রতিযোগী ঝিলম গুপ্ত। কেন তিনি এমন কান্নাকাটি করছেন, তা জানতে চাইলে নিরঞ্জন আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘এত অশান্তি আমার আর ভাল লাগে না।’ এই কথায় ঝিলম তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেন। ঝিলম তাঁকে বলেন, ‘কেউ তো তোর সঙ্গে অশান্তি করছে না। ওরা খালি তোর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে।’ ঝিলম অত্যন্ত সুকৌশলে নিরঞ্জনকে বোঝান যে, এই মুহূর্তে তিনি ঘরের ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে গিয়েছেন বলেই বাকিরা তাঁর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছেন। ঝিলমের কথায়, ‘কিছু করলেও ওরা বলবে গেম চেঞ্জার, না করলেও বলবে। এখন সবাই তোর বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি তো তোর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছি। আমি তো আর চুরি করিনি।’ ঝিলম নিরঞ্জনকে এই বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে, এখন কথা না বললেও পরে বাকিরা ঠিকই তাঁর কাছে ফিরে আসবে, কারণ নিরঞ্জন এই বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিনোদনমূলক সদস্য। তবে ঝিলমের এত বোঝানোর পরেও নিরঞ্জনের কান্না সহজে থামতে চায়নি, যা বিগ বসের ঘরের ভেতরের প্রবল মানসিক চাপের দিকটিকেই তুলে ধরে।
অন্যদিকে, ঝিলম যখন নিরঞ্জনকে বোঝাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বিগ বসের ঘরের অন্য প্রান্তে শুরু হয়ে যায় তাঁদের নিয়ে জোর কূটকচালি এবং গসিপ। জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনামণি সাহা এবং তনুশ্রী রায় দাস সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঝিলম ও নিরঞ্জনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ মারাত্মক অভিযোগ আনতে শুরু করেন। সোনামণি অত্যন্ত বিরক্তির সঙ্গে জানান যে, বিগ বসের ঘরে ঝিলম বা নিরঞ্জনকে কোনো কাজের জন্যই চাপ দেওয়া হয় না। তাঁর অভিযোগ, ‘ওদের কিছু বললেই ওরা পরিষ্কার বলে দেয় যে পারব না, করব না।’ এই কথার সঙ্গে একশো শতাংশ সহমত পোষণ করে তনুশ্রী বলেন, ‘ওদের একটাই কাজ, সারাদিন শুধু হাসি-ঠাট্টা করা। আর আমরা সেই সব কিছু মেনেও নিই।’ সোনামণির অভিযোগের সুর আরও চড়িয়ে বলেন যে, ঘরের অন্যান্য কাজ তো দূরের কথা, ঝিলম এবং নিরঞ্জন নাকি নিজেদের বিছানাটা পর্যন্ত পরিষ্কার করার প্রয়োজন মনে করেন না, সারাদিন শুধু আড্ডা মেরেই সময় কাটান। বিগ বসের ঘরে যেখানে প্রতিদিনের রেশন এবং কাজ নিয়ে তুমুল লড়াই হয়, সেখানে দুজন প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে কাজ না করার এই গুরুতর অভিযোগ শোয়ের আগামী পর্বগুলোতে যে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বলাই বাহুল্য, গ্যাস ওভেন বার্নার চুরি হওয়ার ঘটনার পর থেকেই বিগ বস হাউজের ভেতরের রসায়ন এবং সম্পর্কের সমীকরণ একেবারে আমূল বদলে গিয়েছে। একদিকে সোনামণি ও তনুশ্রীর মতো প্রতিযোগীরা যেখানে ঝিলম ও নিরঞ্জনের বিরুদ্ধে জোট বাঁধছেন, অন্যদিকে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে আসা রাজবীর দে এবং জিতু কামালের উপস্থিতিও ঘরের উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সপ্তাহে বিগ বসের ঘরে ডবল এলিমিনেশনের খাঁড়া ঝুলছে, যা প্রতিযোগীদের মধ্যে আরও বেশি করে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে তীব্র করে তুলেছে। এই চরম ডামাডোল এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝে দাঁড়িয়ে উইকেন্ডের স্পেশাল এপিসোড ‘দাদার দরবার’-এ সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই বার্নার চুরি এবং কাজ না করার অভিযোগ নিয়ে ঠিক কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সৌরভ কি নিরঞ্জনের এই কাজের জন্য তাঁকে কড়া শাস্তি দেবেন? নাকি সোনামণি ও তনুশ্রীর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিলমদের ভর্ৎসনা করবেন? রিয়্যালিটি শোয়ের এই নিষ্ঠুর কিন্তু আকর্ষণীয় খেলায় শেষ পর্যন্ত কারা টিকে থাকতে পারেন আর কারা মানসিক চাপের কাছে হার মানেন, তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে বিগ বসের আগামী পর্বগুলোতে।




