BJP MLA Son Fire Brigade Misuse: বাড়িতে আগুন লাগার মিথ্যে খবর দিয়ে দমকলের গাড়ি ডেকে দেওয়াল ধোয়ালেন বিধায়কের পুত্র, কড়া জরিমানা প্রশাসনের
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
Dahod: জরুরি পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের চরম বিপদের দিনে জীবন বাঁচাতে ত্রাতা হিসেবে কাজ করে দমকল বাহিনী, কিন্তু সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবাকে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার এক চাঞ্চল্যকর ও লজ্জাজনক ঘটনা সামনে এল। গুজরাতের এক বিজেপি বিধায়কের ছেলের বিরুদ্ধে বাড়িতে আগুন লাগার মিথ্যে বা ভুয়া খবর দিয়ে দমকলের ইঞ্জিন ডেকে এনে নিজের বাড়ির বাইরের দেওয়াল ও চত্বর ধোওয়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পরিষেবার এমন অপব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং অভিযুক্ত বিধায়কের ছেলে বলবন্তভাই বাচুভাই খাবাদকে দেবগড় বারিয়া পুরসভার পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই জরিমানার সমস্ত অর্থ জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য এবং সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে যে গত ৪ অক্টোবর গুজরাতের দাহোদ জেলার পিপেরো গ্রামে স্থানীয় প্রভাবশালী বিজেপি বিধায়ক বাচুভাই এম খাবাদের ব্যক্তিগত বাসভবনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে যে বলবন্তভাই খাবাদ নিজেই দমকল দপ্তরে ফোন করে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে জানান যে তাঁদের বাড়িতে আকস্মিক বিধ্বংসী আগুন লেগে গিয়েছে। এই বিপদের খবর পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় দমকলের একটি বড় গাড়ি। কিন্তু বিধায়কের সুদৃশ্য বাড়িতে পৌঁছানোর পরই দমকলকর্মীরা হতবাক হয়ে বুঝতে পারেন যে সেখানে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের লেশমাত্র নেই, বরং সম্পূর্ণ অন্য হীন উদ্দেশ্যে তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। বাড়ির বাইরের অংশ ও দেওয়াল জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করার জন্যই যে এই ভুয়া কলারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল, তা বুঝতে পেরে কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানান এবং কাজ বন্ধ করে গাড়ি ফিরিয়ে নেন।

এই ঘটনার একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে দমকলের গাড়ি থেকে শক্তিশালী হোস পাইপের সাহায্যে জল স্প্রে করে বাড়ির দেওয়াল ও চত্বর ধুয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সরকারি ও জরুরি পরিষেবার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অপব্যবহারের ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরেই স্থানীয় দেবগড় বারিয়া পুরসভার চেয়ারপার্সন ধর্মেশ কালাল সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত বলবন্তভাই খাবাদকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠান। জরুরি পরিষেবার বহুমূল্য গাড়িকে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালির কাজের জন্য এভাবে ব্যবহার করার ঘটনা প্রশাসন যে কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না, এই পদক্ষেপে তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজরাটের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলি শাসকদল বিজেপিকে একহাত নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে। যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জরুরি পরিস্থিতিকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে, তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে কংগ্রেসসহ রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের সদস্যদের তরফ থেকে এই ধরনের বেপরোয়া ও উদ্ধত আচরণ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত বিধায়কের পুত্র প্রকাশ্যে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য ক্ষমা চান কি না কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করেন কি না, সেদিকেই এখন সকলের নজর রয়েছে। জরুরি পরিষেবার পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করার এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের সচেতন নাগরিকরা।

সব মিলিয়ে, সাধারণ মানুষের করের টাকায় চালিত সরকারি জরুরি পরিষেবার এহেন অপব্যবহার দেশের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় এক বড়সড় নৈতিক প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ যখন কোনো মারাত্মক বিপদে পড়ে দমকলের সহায়তা পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, তখন জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের পক্ষ থেকে এমন তুচ্ছ ও ব্যক্তিগত কাজে দমকলের গাড়ি ব্যবহার করার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ধরনের ঘটনায় শুধু আইনি জরিমানা বা নোটিস পাঠানোই যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতে যাতে কেউ এই ধরনের ঔদ্ধত্য দেখানোর সাহস না পায়, তার জন্য আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সচেতন সমাজ মনে করে যে আইনের চোখে সবাই সমান এবং ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে যারা সরকারি পরিকাঠামোকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাব সবসময় বজায় থাকা উচিত।




