Dada Boudi Biryani: বারাকপুরের ‘দাদা বউদি’তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইঁদুর! ভাইরাল ভিডিও ও ম্যানেজারের বচসা নিয়ে মুখ খুলল রেস্তরাঁ
BARRACKPORE: Dada Boudi Biryani বা কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় বিরিয়ানি মানেই খাদ্যরসিকদের কাছে ব্যারাকপুরের বিখ্যাত ‘দাদা বউদি’র নাম সবার আগে উঠে আসে। প্রতিদিন এই রেস্তরাঁর জিভে জল আনা বিরিয়ানির টানে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে যান বহু মানুষ। কিন্তু সেই জনপ্রিয় এবং নামজাদা রেস্তরাঁকে কেন্দ্র করেই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক চরম চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। খোদ রেস্তরাঁর ভেতরেই ইঁদুরের উৎপাত নজরে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক এবং ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুদীপ মণ্ডল নামের এক ক্রেতার করা একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই মেগা বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ার পর রেস্তরাঁর পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়ে গোটা ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ।

ঠিক কী ঘটেছিল ব্যারাকপুরের এই নামী রেস্তরাঁয়? জানা গিয়েছে, গত সোমবার সুদীপ মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তি বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যারাকপুরের ‘দাদা বউদি’ রেস্তরাঁয় বিরিয়ানি খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে বসে খাওয়াদাওয়া করার সময়ই হঠাৎ করে তাঁদের নজরে আসে যে রেস্তরাঁর ভেতরে একটি ইঁদুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমন একটি নামী এবং বিলাসবহুল রেস্তরাঁয় ইঁদুরের অবাধ বিচরণ দেখে স্বভাবতই তাঁরা হতবাক হয়ে যান। স্বাস্থ্যবিধির এই মারাত্মক গাফিলতি দেখে সুদীপবাবু এবং তাঁর সঙ্গীরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত রেস্তরাঁর কর্মীদের বিষয়টি জানান। কিন্তু অভিযোগ, কর্মীরা প্রথমদিকে তাঁদের কথায় সেভাবে কোনো কর্ণপাত করেননি বা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। এরপরেই সুদীপবাবু গোটা পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য রেস্তরাঁয় বসেই সরাসরি নিজেদের মোবাইল থেকে ফেসবুক লাইভ করা শুরু করেন।
আরও পড়ুন: Mohun Bagan: এবার থেকে ক্লাবেই থাকবে ট্রফি! কলকাতা লিগ হাতে পেয়ে বিরাট ঘোষণা মোহনবাগান কর্তাদের
কর্মীদের চরম উদাসীনতার পর রেস্তরাঁর ম্যানেজার সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সুদীপবাবু যখন ম্যানেজারকে গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে জানান এবং অভিযোগ করেন, তখন ম্যানেজারের প্রতিক্রিয়া দেখে ক্রেতারা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হন। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে ম্যানেজার রীতিমতো জোর গলায় ওই ক্রেতার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি ইঁদুর ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টিকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে বলেন, “হতেই পারে, কোনোভাবে হয়তো ঢুকে পড়েছে।” একজন দায়িত্বশীল ম্যানেজারের মুখে এমন অপেশাদার এবং দায়সারা মন্তব্য শুনে উপস্থিত ক্রেতারা রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। ম্যানেজারের এই উদ্ধত আচরণের পুরো বিষয়টি সুদীপবাবুর ফেসবুক লাইভে রেকর্ড হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

এই মেগা বিতর্কের জেরে যাঁরা নিয়মিত ‘দাদা বউদি’তে খাওয়াদাওয়া করেন, তাঁদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রেস্তরাঁর স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে ক্রমাগত সমালোচনার ঝড় উঠতে শুরু করলে অবশেষে ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে নামে মূল রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের অফিশিয়াল পেজ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে গোটা ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ করা হয়। রেস্তরাঁর তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আমরা তা বুঝতে পারছি। বারাকপুর আউটলেটের ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” কর্তৃপক্ষ আরও জানায় যে, এই মেগা বিতর্কটিকে তাঁরা কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না, বরং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।

রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের এই অফিশিয়াল বিবৃতিতে শুধু দুঃখপ্রকাশই নয়, ম্যানেজারের ওই বিতর্কিত আচরণের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে যে, ঘটনার সময়ে তাঁদের ম্যানেজার পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও, তিনি যে পদ্ধতিতে কথা বলেছেন তা একেবারেই ঠিক ছিল না। ক্রেতার সঙ্গে বচসায় না জড়িয়ে আরও ভালোভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতিটি সামাল দেওয়া যেত বলে তাঁরা প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছেন। এরপরই রেস্তরাঁর তরফে সমস্ত ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে কড়া আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের নো অস্বাস্থ্যকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার জন্য সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যারাকপুরের এই ঐতিহাসিক রেস্তরাঁটি বাংলার ফুড সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষের এই দ্রুত ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রতিশ্রুতির পর খাদ্যরসিকরা তাঁদের এই প্রিয় বিরিয়ানির ঠিকানায় পুনরায় আগের মতো গভীর আস্থা ফিরে পান কি না।




