Mohun Bagan: এবার থেকে ক্লাবেই থাকবে ট্রফি! কলকাতা লিগ হাতে পেয়ে বিরাট ঘোষণা মোহনবাগান কর্তাদের
KOLKATA: Mohun Bagan বা মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের অগণিত সমর্থকদের জন্য আজ আক্ষরিক অর্থেই এক অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের দিন। দীর্ঘ আট বছরের যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা ফুটবল লিগ বা সিএফএল (CFL)-এর চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে সবুজ-মেরুন শিবিরের হাতে তুলে দেওয়া হলো। লিগ জয়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ক্রীড়ামন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্লাবের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মোহনবাগানের হাতে কলকাতা লিগের ট্রফি তুলে দিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ অত্যন্ত আবেগঘন গলায় বলেন যে, মোহনবাগান শুধু বাংলার নয়, বরং গোটা ভারতের গর্ব। বছরের পর বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব যেভাবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে, আগামী দিনেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আর এই ট্রফি হাতে পাওয়ার পরই মোহনবাগান কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মেগা ঘোষণা করা হয়। কর্তারা জানিয়েছেন যে, এবার থেকে লিগ বা অন্যান্য টুর্নামেন্ট জয়ের সমস্ত ট্রফি ক্লাবের তাঁবুতেই সযত্নে সংরক্ষিত করে রাখা হবে, যাতে সমর্থকরা তা চাক্ষুষ করতে পারেন।

কলকাতা ফুটবল লিগের এই ট্রফি জয় মোহনবাগানের জন্য কোনো সাধারণ জয় নয়, বরং এটি একটি বড়সড় মর্যাদার মেগা লড়াই ছিল। গত আট বছর ধরে এই ট্রফি সবুজ-মেরুন শিবিরের অধরা ছিল, যা সমর্থকদের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এবার তরুণ এবং অভিজ্ঞ দেশীয় ফুটবলারদের মেলবন্ধনে দল যে অনবদ্য ফুটবল উপহার দিয়েছে, তার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। সুপার সিক্সের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান স্পোর্টিংকে পেছনে ফেলে মোহনবাগান নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। অধিনায়ক শুভাশিস বসু আগেই জানিয়েছিলেন যে, ক্লাবে ট্রফি ঢুকলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং মানসিকতা সম্পূর্ণ বদলে যাবে, আর বাস্তবে ঠিক সেটাই হয়েছে। বারাসত স্টেডিয়ামে মহামেডানকে রুখে দিয়ে লিগ নিশ্চিত করার পর থেকেই মোহনবাগান তাঁবুতে উৎসবের মেজাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। আজ ট্রফি হাতে পাওয়ার পর সেই মেগা উৎসব যেন পূর্ণতা পেল। ক্লাবের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে আপ্লুত সমর্থকরা এখন নতুন করে আইএফএ শিল্ড এবং আইএসএল-এর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
কলকাতা লিগের ট্রফি হাতে আসার পর মুহূর্তের জন্যও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নয় সবুজ-মেরুন শিবির। ডুরান্ড কাপ হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই পরবর্তী সমস্ত প্রতিযোগিতায় ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়েছে মোহনবাগান। তাদের বর্তমান পাখির চোখ হলো মর্যাদাপূর্ণ আইএফএ শিল্ড (IFA Shield)। গতবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে এই শিল্ড ঘরে তুলেছিল তারা, তাই এবার খেতাব ধরে রাখার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস। শিল্ডে বিদেশি ফুটবলার খেলানো যাবে, তাই জেসন কামিন্স, জেমি ম্যাকলারেনদের মতো তারকা ফুটবলাররা ইতিমধ্যেই রবিবার থেকে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। একমাত্র সমীর জেলকোভিচ ছাড়া প্রায় সব বিদেশিকেই পুরোদমে প্র্যাকটিস করতে দেখা গিয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আইএফএ শিল্ডের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মোহনবাগান নামতে চলেছে শক্তিশালী শ্রীনিধি ডেকানের বিরুদ্ধে। শিল্ডের গ্রুপ পর্বে শ্রীনিধি ডেকান ছাড়াও নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে মোহনবাগানকে। তাই দলের পারফরম্যান্সে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

আইএফএ শিল্ডের এই মেগা টুর্নামেন্ট ঘিরে এবার আয়োজনের ক্ষেত্রেও কিছু নতুন নিয়ম এবং সূচি তৈরি করা হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপুজো এবং আইএসএল-এর জন্য যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পাওয়া কার্যত অসম্ভব, সেই কারণেই এবার আইএফএ বাধ্য হয়ে কলকাতার তিন প্রধানের নিজস্ব মাঠ, বারাসত স্টেডিয়াম এবং কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঠিক হয়েছে, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান নিজেদের গ্রুপ লিগের ম্যাচগুলি তাদের নিজস্ব মাঠেই খেলবে, যা সমর্থকদের জন্য এক বিরাট পাওনা হতে চলেছে। তবে এই উৎসবের আবহের মধ্যেই শিল্ড বয়কটের এক চাঞ্চল্যকর হুঁশিয়ারি দিয়ে মেগা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মহামেডান স্পোর্টিং। কলকাতা লিগে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোলটি অফসাইড ছিল বলে দাবি করে মহামেডান কর্তারা রিপ্লের দাবিতে অনড়। ক্লাবের সভাপতি গজল উজ জাফর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওই বিতর্কিত ম্যাচের রিপ্লে না হলে সাদা-কালো ব্রিগেড আইএফএ শিল্ডে অংশ নেবে না। মহামেডান যদি সত্যি বয়কট করে, তবে তাদের জায়গায় ভবানীপুর বা ইউনাইটেড স্পোর্টসকে ডাকা হতে পারে বলে আইএফএ সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন: Milan Pradhan: হাইকোর্টের নির্দেশের পরই মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন মামলা! পুলিশের বিরুদ্ধে মেগা অভিযোগ আইনজীবীর
মহামেডানের এই বয়কট বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, মোহনবাগান শিবির বর্তমানে নিজেদের প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র ঢিলেমি দিচ্ছে না। ক্রীড়ামন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্লাবের সাধারণ সমর্থক—প্রত্যেকেরই আশা যে কলকাতা লিগ জয়ের পর মোহনবাগান আইএফএ শিল্ডেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখবে এবং আইএসএল-এও নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ফুটবলারদের মনে এই মুহূর্তে এক প্রবল ইতিবাচক এনার্জি কাজ করছে। ট্রফি ক্লাবেই রেখে দেওয়ার যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কর্তারা নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে ফুটবলারদের এবং ভবিষ্যতের একাডেমি প্লেয়ারদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সবুজ-মেরুন গ্যালারি ভরিয়ে যে অগণিত সমর্থক দিনের পর দিন দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এই ট্রফিগুলো আসলে তাঁদেরই আবেগের প্রতিচ্ছবি। আগামী দিনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ভারতীয় ফুটবলের আঙিনায় আরও কতগুলি নতুন ইতিহাস রচনা করে এবং ট্রফি ক্যাবিনেটকে কতটা সমৃদ্ধ করে, এখন সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ক্রীড়ামহল।




