Milan Pradhan: হাইকোর্টের নির্দেশের পরই মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন মামলা! পুলিশের বিরুদ্ধে মেগা অভিযোগ আইনজীবীর

Published:

Milan Pradhan: হাইকোর্টের নির্দেশের পরই মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন মামলা! পুলিশের বিরুদ্ধে মেগা অভিযোগ আইনজীবীর

KOLKATA: Milan Pradhan বা নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের লড়াকু কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে আইনি জটিলতা এবং রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি তাঁকে ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেই স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের চরম আইনি বিপাকে পড়লেন তিনি। কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবীর চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, হাইকোর্টের ওই মেগা নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নতুন আরও একটি মামলা রুজু করেছে। এই মেগা খবরটি হাইকোর্টের এজলাসে প্রকাশ্যে আসতেই গোটা রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মতো একটি অত্যন্ত হাই-ভোল্টেজ এবং মর্যাদাপূর্ণ কেন্দ্রে শাসকদলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা একজন বিরোধী প্রার্থীর বিরুদ্ধে এহেন লাগাতার আইনি পদক্ষেপ রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Advertisement Andaman Vibes

কলকাতা হাইকোর্টে মিলন প্রধানের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কংগ্রেস প্রার্থীকে আটকে রাখার মেগা ছক কষছে। তাঁর দাবি, পুরোনো একটি মামলায় যখনই তাঁর মক্কেল আইনি স্বস্তি বা জামিন পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ নতুন মামলা দায়ের করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তিনি কোনোভাবেই জেল থেকে বেরিয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারেন। আইনজীবীর মতে, এটি নিছক কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার এক অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং নগ্ন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা এবং নতুন করে মামলা চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিচারপতির সামনে তুলে ধরে তিনি অবিলম্বে আদালতের কড়া হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: রাস্তায় নেমে অতি-সক্রিয়তা নয়! মন্ত্রিসভার দুই সদস্যকে নিজেদের দপ্তরে বসে কাজ করার কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

এই নতুন মামলার খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মাত্র কয়েকদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছিলেন। সেই শুনানিতে আদালত মৌখিকভাবে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, কোনো নাগরিককে স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলে আটকে রেখে তাঁর নির্বাচনে লড়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। ‘প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোটে লড়তে দিন’—আদালতের এই সুস্পষ্ট বার্তার পরও পুলিশের এই নতুন মামলা দায়ের করার ঘটনা কার্যত হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী বলেই মনে করছে আইনজ্ঞ মহল। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ এখন সম্পূর্ণভাবে শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে এবং আদালতের নির্দেশকেও তারা পরোক্ষভাবে অবমাননা করতে পিছপা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন শুধুমাত্র আর ভোটবাক্সের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সরাসরি আদালত বনাম রাজ্য প্রশাসনের এক মেগা আইনি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

Ad

কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এই নতুন মামলা দায়ের হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ধেয়ে এসেছে। প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যের বর্তমান শাসকদল খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে নন্দীগ্রামের মাটিতে কংগ্রেসের জনসমর্থন এখন তুঙ্গে এবং মিলন প্রধান বাইরে থাকলে তাঁদের পরাজয় নিশ্চিত। আর সেই হারার ভয় থেকেই পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে একজন জনপ্রিয় বিরোধী প্রার্থীকে ভোটের ময়দান থেকে দূরে সরিয়ে রাখার এই ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, পুলিশি সন্ত্রাস এবং আইনি বেড়াজাল দিয়ে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যাবে না। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে যে আইন আইনের পথেই চলছে এবং পুলিশ নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু ভোটের ঠিক মুখে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা যে সাধারণ মানুষের চোখে অত্যন্ত সন্দেহজনক ঠেকছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুন: Hasirani Rath: জন্মের বছরই মাধ্যমিক পাস! নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামা নিয়ে হাইকোর্টে কংগ্রেস 

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পারদ ততই চরম সীমায় পৌঁছাচ্ছে। এখন সকলের নজর কলকাতা হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আদালত মিলন প্রধানের আইনজীবীর এই নতুন অভিযোগকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং পুলিশকে এই বিষয়ে নতুন করে কোনো কড়া নির্দেশ বা ভর্ৎসনা করে কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। মিলন প্রধান যদি শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপে আইনি রক্ষাকবচ পেয়ে ভোটের ময়দানে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেন, তবে নন্দীগ্রামের ভোটযুদ্ধ যে আক্ষরিক অর্থেই এক মেগা হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে পরিণত হবে, তা নিশ্চিত। আর যদি তাঁকে জেলের ভেতরেই আটকে থাকতে হয়, তবে ‘সিমপ্যাথি ভোট’ বা সহানুভূতির হাওয়া যে শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের আইনি লড়াইয়ের ওপরই ঝুলে রয়েছে মিলন প্রধানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নন্দীগ্রামের মেগা উপনির্বাচনের আসল সমীকরণ।

Advertisement

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img