Suvendu Adhikari: রাস্তায় নেমে অতি-সক্রিয়তা নয়! মন্ত্রিসভার দুই সদস্যকে নিজেদের দপ্তরে বসে কাজ করার কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari: রাস্তায় নেমে অতি-সক্রিয়তা নয়! মন্ত্রিসভার দুই সদস্যকে নিজেদের দপ্তরে বসে কাজ করার কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

KOLKATA: Suvendu Adhikari বা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক কঠোরতা এবং চরম শৃঙ্খলাপরায়ণতার কথা রাজনৈতিক মহলে আজ আর কারও অজানা নয়। এবার সেই কড়া মেজাজেরই এক অভূতপূর্ব এবং মেগা নজির দেখল গোটা রাজ্যবাসী। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্ন থেকে নিজেরই মন্ত্রিসভার দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হেভিওয়েট সদস্যকে কার্যত তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কড়া ভাষায় তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, মন্ত্রী হিসেবে রাস্তায় নেমে অযথা ‘অতি-সক্রিয়তা’ বা ওভার-অ্যাক্টিভিজম দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এর বদলে নিজেদের নির্দিষ্ট দপ্তরে বসে, সরকারি চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর স্বাভাবিকভাবেই নবান্নের অলিন্দে এবং রাজ্য রাজনীতির অন্দরে রীতিমতো মেগা চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। খোদ নিজের মন্ত্রীদের প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এভাবে সতর্ক করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে, তাঁর সরকারে কোনো রকম কাজে গাফিলতি বা সস্তার রাজনৈতিক চমক কোনোমতেই বরদাশত করা হবে না।

Advertisement

নবান্ন সূত্রে এক্সক্লুসিভভাবে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া কিছু রাজনৈতিক, সামাজিক ও বন্যা সংক্রান্ত ইস্যুতে ওই দুই মন্ত্রী নিজেদের দপ্তরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের চেয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ বা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। মন্ত্রীদের এই ধরনের অতি-সক্রিয় আচরণ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নজরে আসে। তিনি স্পষ্টভাবে মনে করেন যে, একজন পূর্ণমন্ত্রী যখন রাস্তায় নেমে বিরোধী দলের সাধারণ নেতার মতো আচরণ করেন, তখন তা সরকারের প্রশাসনিক ভাবমূর্তি এবং গাম্ভীর্যকেই চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। রাজ্যের শাসকদলের নেতা হিসেবে অবশ্যই তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকতে পারে, কিন্তু যখন তাঁরা সরকারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, তখন তাঁদের প্রধান কাজ হলো দপ্তরের ফাইলের জট কাটানো, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের দ্রুত সমাধান করা এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সঠিক ব্যবহার সুনিশ্চিত করা। ক্যামেরার সামনে সস্তার জনপ্রিয়তা কুড়োনোর জন্য রাস্তায় নেমে অতি-সক্রিয়তা দেখালে আদতে সরকারের মূল কাজগুলিই যে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়, মুখ্যমন্ত্রী ওই দুই মন্ত্রীকে অত্যন্ত রূঢ় বাস্তবটা কড়া ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Hasirani Rath: জন্মের বছরই মাধ্যমিক পাস! নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামা নিয়ে হাইকোর্টে কংগ্রেস

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্দেশ নিছকই কোনো সাধারণ ধমক বা তিরস্কার নয়, বরং এটি তাঁর সমগ্র মন্ত্রিসভার প্রতি এক অত্যন্ত কড়া ও সুস্পষ্ট মেগা বার্তা। তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্যকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা এখন আর বিরোধী আসনে বসে নেই, বরং তাঁরা রাজ্যের শাসক এবং জনগণের সেবক। তাই বিরোধী সুলভ আন্দোলন বা কথায় কথায় রাস্তায় নেমে স্লোগান দেওয়ার দিন এখন সম্পূর্ণ শেষ। এখন তাঁদের একমাত্র কাজ হলো নবান্ন বা নিজেদের দপ্তরে বসে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা। যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতি বা মেগা বিপর্যয়ে মন্ত্রীদের প্রধান দায়িত্ব হলো কন্ট্রোল রুমে বসে পরিস্থিতি তদারকি করা এবং জেলাশাসক বা পুলিশ সুপারদের সঠিক নির্দেশিকা প্রদান করে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করা। কিন্তু তা না করে যদি মন্ত্রীরাই সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় নেমে পড়েন, তবে প্রশাসনের নিচুতলার কর্মীদের কাছে অত্যন্ত ভুল এবং নেতিবাচক বার্তা যায়। ঠিক এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন এবং মন্ত্রীদের তাঁদের কাজের আইনি সীমানা পুনরায় স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

Ad

রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপ এক বিরাট বড় কাঠামোগত এবং মানসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটা চেনা রেওয়াজ চলে আসছে যেখানে মন্ত্রী বা শাসকদলের শীর্ষ নেতারা সামান্য ইস্যুতেই কথায় কথায় রাস্তায় নেমে পড়েন। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই পুরনো এবং চেনা ছক ভেঙে এক সম্পূর্ণ নতুন, পেশাদার এবং কর্পোরেট ধাঁচের প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই নতুন মডেলে আবেগ বা রাজনৈতিক চমকের চেয়ে সাধারণ মানুষের প্রতি প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং কাজের গতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা মন্ত্রীদের ডানা ছাঁটার মেগা চেষ্টা বলে কটাক্ষ করতে বিন্দুমাত্র ছাড়ছে না। কিন্তু রাজ্যের নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং একজন সুশাসকের চরম লক্ষণ। এর ফলে মন্ত্রীদের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা যেমন বাড়বে, তেমনই আটকে থাকা সরকারি প্রকল্পগুলির দ্রুত রূপায়ণে আরও অনেক বেশি গতি আসবে বলে প্রবল আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত’, বিরোধীদের ওপর লাগাতার হামলা নিয়ে মেজাজে সরব দিলীপ ঘোষ

নবান্নের শীর্ষ স্তর থেকে এই কড়া ধমক খাওয়ার পর ওই দুই মন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যকলাপে রাতারাতি বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যেই নিজেদের রাস্তায় নামার প্রবণতা সম্পূর্ণ কমিয়ে দিয়ে দপ্তরের কাজে অনেক বেশি সময় দিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইলে সই করা থেকে শুরু করে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত মেগা বৈঠক করে কাজের অগ্রগতি খুঁটিয়ে দেখছেন তাঁরা। শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ রাজ্যের সমস্ত স্তরের আমলা, আমলাতন্ত্র এবং সরকারি কর্মচারীদের কাছেও এক অত্যন্ত কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, কাজে ফাঁকি দেওয়া বা প্রশাসনিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ এই বর্তমান সরকারে নেই। আগামী দিনে রাজ্য সরকার যাতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে এবং রাজ্যবাসীকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও গতিশীল প্রশাসন উপহার দিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘নো-ননসেন্স’ বা কড়া মনোভাব অত্যন্ত জরুরি ছিল। এখন দেখার বিষয়, নবান্নের এই কড়া শৃঙ্খলার বাতাবরণ আগামী দিনে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে ঠিক কতটা ইতিবাচক মেগা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়।

Advertisement Andaman Vibes

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img