Calcutta High Court CPIM stall: বনগাঁয় সিপিএমের বুক স্টল বসানোর একক বেঞ্চের রায়ে স্থগিতাদেশ ডিভিশন বেঞ্চের, সরাতে হবে অস্থায়ী কাঠামোও
রিপোর্ট: তানিয়া রায়
Bongaon: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বনগাঁয় সিপিএমের বুক স্টল বসানোকে কেন্দ্র করে চলা আইনি লড়াইয়ে এক বড় মোড় তৈরি হয়েছে, যেখানে একক বেঞ্চের দেওয়া পূর্বের রায় খারিজ করে তার ওপর স্পষ্ট স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। পুজোর এই আনন্দঘন সময়ে দলের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী বুক স্টল চালুর অনুমতি চেয়ে আদালতের দারস্থ হওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছিল। বিচারালয়ের এই নতুন নির্দেশের ফলে উৎসবের মরশুমে স্টল স্থাপন এবং তার পার্শ্ববর্তী অস্থায়ী কাঠামো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে নতুন করে তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
বনগাঁর ব্যস্ততম যশোর রোডে একটি নির্দিষ্ট পুজো মণ্ডপের ঠিক পাশেই বুক স্টল বসানোর অনুমতি চেয়ে সিপিএমের পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে এই মামলার শুনানির পর একক বেঞ্চের বিচারক স্পষ্ট মত দিয়েছিলেন যে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী অন্য কাউকে স্টল বসানোর সুযোগ দেওয়া হলে সিপিএমের এই আবেদনকেও যুক্তিযুক্তভাবে বিবেচনা করা উচিত। সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে স্টল বসানোর সবুজ সংকেত দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল ও নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
Advertisement of Andaman vibes
আইনি এই শুনানির সময় সিপিএমের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বিষয়টিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার এবং নিরাপত্তার মৌলিক প্রশ্ন হিসেবে জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল সাফ আপত্তি জানিয়ে বলেন যে যথাযথ অনুমতি ছাড়া অন্যের সম্পত্তিতে কোনো ধরনের অস্থায়ী নির্মাণ করা এবং পরবর্তীতে তার নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো কোনোভাবেই আইনসম্মত হতে পারে না। একক বেঞ্চের সেই প্রাথমিক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার দেরি না করে সরাসরি ডিভিশন বেঞ্চের শরণাপন্ন হয় এবং নিজেদের আপত্তির কথা বিস্তারিতভাবে জানায়।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পরেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের সেই পূর্ববর্তী নির্দেশের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ স্থগিতাদেশ জারি করেছে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি বনগাঁয় দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুজো উপলক্ষে যে সমস্ত অস্থায়ী কাঠামো বা প্যান্ডেল সদৃশ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল, তাও অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে পুজোর কদিন বনগাঁর ওই নির্দিষ্ট চত্বরে সিপিএমের বুক স্টল বসার সমস্ত সম্ভাবনা কার্যত ভেস্তে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Advertisement of Piyachanda Nritya Academy
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আনন্দ ও উৎসবের আবহে বনগাঁর এই বুক স্টল বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে আইনি লড়াইয়ের গ্যাঁড়াকলে পড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। উৎসবের দিনে এই ধরনের রাজনৈতিক বা প্রচারমূলক স্টল বসানো নিয়ে প্রশাসন ও বিরোধী শিবিরের এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর রয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর বনগাঁর স্থানীয় স্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।