Mahua Moitra Supreme Court: নদীয়া সফর নিয়ে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, প্রশাসনকে একদিন আগে জানানোর নির্দেশ মহুয়া মৈত্রকে
রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ
রাজ্য রাজনীতি এবং জাতীয় মহলের নজর কেড়ে নেওয়া এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপে পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে বড় নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নদীয়া জেলা প্রশাসনকে তাঁর নির্ধারিত সফরের অন্তত একদিন আগে আগাম তথ্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যাতে প্রশাসন তাঁর আবাসন ও প্রোটোকল সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে। গত সেপ্টেম্বর মাসের জেলা প্রশাসনের একটি বিতর্কিত সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চলাকালীন এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ। আদালতের এই সুচিন্তিত হস্তক্ষেপে একদিকে যেমন প্রোটোকল সংক্রান্ত জটিলতা কাটল, তেমনই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের সমন্বয় সাধনের পথও অনেকটাই পরিষ্কার হলো।
New Delhi: মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে যে এই ধরনের ছোটখাটো প্রশাসনিক ও প্রোটোকল সংক্রান্ত বিষয়গুলি বারবার আদালতের চৌকাঠ পর্যন্ত গড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট এবং সুসংহত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র বা এসওপি (SOP), যা উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর নদীয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছিল, যেখানে সমস্ত সংসদ সদস্য (MP) এবং বিধায়কদের (MLA) প্রস্তাবিত সফরের অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবারের শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে ওই বিতর্কিত সার্কুলারটি আর কার্যকর করা হবে না বা তার ওপর আমল দেওয়া হবে না।

এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে গত অগাস্ট মাসে নদীয়া জেলার একটি সার্কিট হাউসে ঘটা অনভিপ্রেত ও বিতর্কিত ঘটনাটি। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর মূল পিটিশনে অভিযোগ করেছিলেন যে, গত আগস্ট মাসে রাজ্য পরিচালিত ওই সার্কিট হাউসে তাঁর নামে নিয়মমাফিক রুম বা কক্ষ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁকে সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে বা evicted করে দিয়েছিলেন। এমনকি গত ১৪ আগস্ট রাতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন যে সার্কিট হাউসের বাইরে একটি বিশাল জনতা জড়ো হয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেছিল, যখন তিনি ওই চত্বর ছাড়তে অস্বীকার করেছিলেন। এই হয়রানির বিরুদ্ধে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও কড়া হস্তক্ষেপ চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং আইনি লড়াইয়ের হুঙ্কার দিয়েছিলেন।
এদিনের শুনানিতে মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দেখিয়ে বলেন যে প্রোটোকল অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের পদমর্যাদা রাজ্যের মুখ্যসচিবের চেয়েও উঁচুতে থাকে এবং গত ১ সেপ্টেম্বরের ওই সার্কুলারটি বিশেষভাবে তাঁকেই লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, মহুয়া মৈত্র সাংসদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল বা এমপিএলএডিএস (MPLADS) প্রকল্প রূপায়ণে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করছে না বলেও জোরালো অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল যে গত মে মাসের পর থেকে প্রশাসনের অসহযোগিতার জেরে প্রায় ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে। তবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই অভিযোগগুলির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে এই ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিষয়গুলি কখনোই অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন হতে পারে না। আদালতও এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে যে এমপিএলএডিএস সংক্রান্ত বিষয়ে আবেদনকারী ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে তিনি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণের ফলে নদীয়া জেলা প্রশাসন এবং সাংসদ মহুয়া মৈত্র উভয়ের পক্ষেই কাজের পরিবেশ আরও অনেক বেশি সহজ ও শৃঙ্খলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রোটোকল মেনে সফরের একদিন আগে প্রশাসনের দফতরে আগাম বার্তা পাঠানোর যে নিয়ম শীর্ষ আদালত ঠিক করে দিয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রশাসনিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কাজকে সুচারুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এই আইনি নির্দেশ এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। আগামী দিনে এই প্রোটোকল মেনে চলা এবং প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির কাজের সমন্বয় রাজ্য রাজনীতির ময়দানে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।




