Dilip Ghosh: ‘সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত’, বিরোধীদের ওপর লাগাতার হামলা নিয়ে মেজাজে সরব দিলীপ ঘোষ

Published:

Dilip Ghosh: ‘সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত’, বিরোধীদের ওপর লাগাতার হামলা নিয়ে মেজাজে সরব দিলীপ ঘোষ

KOLKATA: Dilip Ghosh বা রাজ্য বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ মানেই চেনা মেজাজে সোজাসাপটা এবং চাঁচাছোলা আক্রমণ। রাজ্যে বিরোধীদের ওপর লাগাতার হামলা এবং রাজনৈতিক হিংসার প্রতিবাদে এবার সেই চেনা সুরেই মারাত্মকভাবে সরব হলেন তিনি। কলকাতা থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদলকে তুলোধোনা করে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত!’ রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং প্রশাসন যে নির্বিকার, সেই অভিযোগ তুলে তিনি অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে বিরোধী নেতার ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মেগা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Ad

সম্প্রতি কলকাতার মুকুন্দপুরে পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে খোদ পুলিশের সামনে প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে চরম মারধরের ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে রয়েছে। এই ঘটনার উল্লেখ করেই মূলত দিলীপ ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে এখন এমন এক ভয়ংকর স্বৈরাচারী পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে বিরোধী রাজনীতি করার কোনো জায়গাই আর অবশিষ্ট নেই। খাস কলকাতার বুকে, অন্তত ৫০ জন পুলিশ কর্মীর উপস্থিতিতে যদি একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি এবং মহিলা নেত্রীকে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারা হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? দিলীপ ঘোষের মতে, শাসকদল নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে অত্যন্ত সচেতনভাবেই বিরোধীদের ওপর এই ধরনের গুন্ডাবাহিনী লেলিয়ে দিচ্ছে, যাতে ভয়ের আবহে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে না পারে।

আরও পড়ুন: Bandel: ব্যান্ডেলের বেসরকারি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিটের লক্ষ লক্ষ টাকা উধাও! পুলিশের জালে ব্যাংক কর্মী 

দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন যে, এই সমস্ত হামলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে খোদ রাজ্য পুলিশ। তাঁর মতে, পুলিশ এখন সম্পূর্ণভাবে শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে এবং বিরোধীদের ওপর হামলা হলে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। “পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছে আর গুন্ডারা বিরোধীদের মেরে মুখ ফাটিয়ে দিচ্ছে—এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না,” বলে তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, এইভাবে ভয় দেখিয়ে এবং বিরোধীদের গলা টিপে ধরে রাজনীতি করা বেশিদিন চলতে পারে না। রাজ্যের মানুষ সব দেখছে এবং সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ যেদিন ভাঙবে, সেদিন আর এই পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। দিলীপ ঘোষের এই চেনা আগ্রাসী এবং মেগা রাজনৈতিক বক্তব্য তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করেছে।

Advertisement Andaman Vibes

সামনেই রাজ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় উপনির্বাচন আসতে চলেছে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজ্য জুড়ে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছে বিরোধী শিবির। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য তারই একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসা দেখা গিয়েছিল। এখন থেকেই যদি কড়া হাতে এই ধরনের গুন্ডামিকে দমন না করা হয়, তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ মানুষকে এই হিংসার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানান। দিলীপ ঘোষের কথায়, “গণতন্ত্রে বিরোধীদের সম্মান না দিলে তা কখনোই সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না, আর বাংলার মাটি এই ধরনের গুন্ডামি চিরকাল মেনে নেবে না।”

আরও পড়ুন: Vande Mataram: বন্দে মাতরম পুরো না গাইলে জেল বা জরিমানা নয়, শুনানিতে বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের 

দিলীপ ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ধেয়ে এসেছে। শাসকদলের নেতাদের দাবি, বিরোধী শিবিরে এখন কোনো সাংগঠনিক শক্তি নেই, তাই প্রচারের আলোয় থাকার জন্য দিলীপ ঘোষ এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। মুকুন্দপুরের ঘটনার ক্ষেত্রেও তাঁরা পালটা বিরোধীদের উসকানিকেই দায়ী করেছেন। তবে রাজনীতিতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ যাই থাকুক না কেন, দিলীপ ঘোষের এই ‘সীমা থাকা উচিত’ মন্তব্যটি যে বাংলার বর্তমান হিংসাদীর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারণ মানুষ এখন শুধু একটাই জিনিস চায়—শান্তিতে ভোট দেওয়া এবং রাজনৈতিক হিংসা থেকে মুক্তি পাওয়া। এই মেগা বিতর্ক আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক পারদকে কতটা চড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Advertisement

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img