Supreme Court TMC Symbol Freeze: ‘কত সময় লাগবে?’, তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিবাদ মেটাতে নির্বাচন কমিশনকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court TMC Symbol Freeze: ‘কত সময় লাগবে?’, তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিবাদ মেটাতে নির্বাচন কমিশনকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

NEW DELHI: Supreme Court TMC Symbol Freeze বা তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারের ওপর নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে করা মামলায় আপাতত কোনো আইনি স্বস্তি পেলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মেগা মামলার শুনানি হয়। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল থাকছে। তবে এই বিবাদের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে কমিশনের আর ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা আগামী সোমবারের মধ্যে আদালতকে জানাতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আসন্ন ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মেগা রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

Advertisement Andaman Vibes

আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবাল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, যে পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে, তা পুরোপুরি অসাংবিধানিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সিবালের দাবি, “সব জেনে বুঝেই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পরে প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। কেন নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই মেগা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? কমিশন আগে কেন সিদ্ধান্ত নিল না?” তিনি আদালতকে আরও জানান যে, তাঁরা বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর কোনো স্থগিতাদেশ চাইছেন না, কিন্তু অক্টোবরের পুর নির্বাচনের আগেই যেন কমিশন এই বিবাদের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে, সেই নির্দেশ দেওয়া হোক। কপিল সিবালের যুক্তি ছিল, গত ২ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হলেও, প্রতিপক্ষ শিবির বারবার সময় চেয়ে এই বিষয়টিকে প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: BJP Election Expenditure: ৫ রাজ্যের ভোটে ৫২৯ কোটির মধ্যে শুধু বাংলাতেই খরচ ২৮৬ কোটি টাকা! প্রকাশ্যে বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের মেগা হিসাব 

তবে কপিল সিবালের এই কড়া যুক্তি এবং অবিলম্বে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আর্জি সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সেভাবে আমল দেয়নি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট জানান যে, নির্বাচন কমিশনের ওই নির্দেশটি একটি অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী সিদ্ধান্ত এবং যেহেতু নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, তাই এই মুহূর্তে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কপিল সিবালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সিবাল, আমরা আপনার উদ্বেগ বুঝতে পারছি। কিন্তু এখানে কমিশন ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে।” বেঞ্চের মতে, দুই পক্ষই ইতিমধ্যেই নিজেদের আলাদা আলাদা মনোনয়ন জমা দিয়েছে এবং উপনির্বাচনের জন্য পৃথক প্রতীক পেয়েছে। তাই কমিশনের চূড়ান্ত নির্দেশ আসা পর্যন্ত সব পক্ষেরই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা উচিত। এমনকী, কখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে, সে ক্ষেত্রে কমিশনের নিজস্ব আইনি এক্তিয়ার রয়েছে বলেও বুঝিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

Ad

শুনানি চলাকালীন ঋতব্রত তৃণমূলের (বিদ্রোহী শিবির) পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী মুকুল রোহতোগি দাবি করেন যে, এই ধরনের আইনি বিবাদের সমাধান অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। তিনি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা এবং এনসিপি মামলার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন যে, কমিশনকে এইভাবে সময় বেঁধে দেওয়া যায় না এবং পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তখন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, “শিবসেনা মামলায় দীর্ঘদিন সময় নেওয়ার কী পরিণতি হয় আমরা দেখেছি।” এরপরই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডুর কাছে সরাসরি জানতে চায়, এই নাম-প্রতীক বিবাদের চূড়ান্ত মীমাংসা করতে কমিশনের ঠিক কতদিন সময় লাগবে? জবাবে নাইডু কোর্টকে জানান যে, তাঁকে কমিশনের কাছ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশ (Instruction) নিতে হবে। আগামী সোমবার কমিশন তাদের বক্তব্য জানাবে এবং সেদিনই এই মেগা মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুন: Sharadwat vs Piyush: দমদম পার্কে দুই বিজেপি বিধায়কের প্রকাশ্য বচসা! সিন্ডিকেট নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী শারদ্বত ও পীযূষ 

আপাতত সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের অর্থ হলো, আসন্ন নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কোনোভাবেই তাদের চিরপরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারছে না। তাদের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন অন্তর্বর্তী প্রতীক নিয়েই ময়দানে নামতে হবে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠীও তৃণমূল নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। বাংলার শাসকদলের এই মেগা আড়াআড়ি বিভাজন এবং আইনি লড়াই রাজ্যের আসন্ন ভোটযুদ্ধকে আরও বেশি হাই-ভোল্টেজ করে তুলেছে। নির্বাচন কমিশন সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ঠিক কী সময়সীমা জানায় এবং পুর নির্বাচনের আগে এই বিবাদের কোনো সুরাহা হয় কি না, এখন সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img