Indian Hilsa Ban: স্বাদহীন মাছ ও চড়া দামের জের! ভারত থেকে ইলিশ আমদানিতে মেগা নিষেধাজ্ঞা চাপাল বাংলাদেশের তারেক সরকার
DHAKA: Indian Hilsa Ban বা ভারত থেকে ইলিশ মাছ আমদানির ওপর এবার এক চরম এবং মেগা নিষেধাজ্ঞা জারি করল বাংলাদেশের বর্তমান তারেক রহমানের সরকার। বাঙালির কাছে ইলিশ মাছ নিছক কোনো সাধারণ খাদ্য নয়, বরং এটি এক অনন্ত আবেগ এবং রসনার চূড়ান্ত তৃপ্তির অপর নাম। আর সেই ইলিশ নিয়েই এবার দুই দেশের মধ্যে এক নতুন মেগা বিতর্কের সূত্রপাত হলো। জানা গিয়েছে, গঙ্গা বা পদ্মা নদীর সুস্বাদু ইলিশের বদলে একেবারে ভারতের গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ সাপ্লাই হচ্ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু সেই আমদানিকৃত ইলিশ মাছের কোনো স্বাদ না থাকায় এবং গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আর ভারত থেকে কোনো ইলিশ কিনবে না। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মেগা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। ওপার বাংলার বাজারে ভারতের ইলিশের এই অপ্রত্যাশিত প্রত্যাখ্যান দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ইলিশ কূটনীতিতে এক বিরাট বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ভারত থেকে ঠিক কী পরিমাণ ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল, তার একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ মেগা পরিসংখ্যান সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছর বাংলাদেশে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ইলিশের উৎপাদন একধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। আর সেই বিশাল ঘাটতি মেটাতেই মূলত ভারত থেকে ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম দু’মাসে হরিদাসপুর সীমান্ত হয়ে যশোর জেলার বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছেছে ভারতের প্রায় ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ২২৬ কেজি ইলিশ। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই ২৯ হাজার ৮৮০ কেজি ইলিশ পাঠানো হয়েছিল। আর আগস্ট মাসে সেই পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশে। শুধু পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার থেকেই নয়, খোদ গুজরাটের ভারুচ বন্দর থেকেও ট্রাকে ট্রাকে ইলিশ পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে। সব মিলিয়ে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ ওপার বাংলায় পাঠানো হয়েছে বলে খবর, যা আক্ষরিক অর্থেই এক মেগা রপ্তানি ছিল।
আরও পড়ুন: Jagannath Sir: বীরভূমের সিউড়িতে পা দিয়ে লিখে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করা ও গরিব শিশুদের পাঠশালা চালানো জগন্নাথ মাহারা
কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করার পরেও কেন হঠাৎ এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল তারেক সরকার? এর পেছনে মূল কারণ হলো এই মাছের চূড়ান্ত স্বাদহীনতা এবং আকাশছোঁয়া মেগা দাম। ভারতের গুজরাট বা অন্যান্য সমুদ্র উপকূল থেকে যাওয়া এই ইলিশ খেতে গিয়ে স্বভাবতই বাংলাদেশি আমজনতার হাতে আক্ষরিক অর্থেই ছেঁকা লেগেছে। একদিকে যেমন এই মাছে পদ্মা বা মেঘনার ইলিশের মতো সেই চেনা সুগন্ধ বা অতুলনীয় স্বাদ নেই, অন্যদিকে তেমনি এই নিম্নমানের মাছের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি চড়া দাম চোকাতে হচ্ছিল। বেশি দামে ভারতের এই স্বাদহীন ইলিশ কিনে বাংলাদেশের ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এহেন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করার মেগা নির্দেশ দেয় তারেক সরকার। ক্রেতাদের অসন্তোষ এবং মাছের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসন বাধ্য হয়েই এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা হওয়ার পরেই প্রশাসনিক স্তরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মহম্মদ খালেদ কনকের তরফ থেকে একটি অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাঁর সরাসরি নির্দেশে ইতিমধ্যেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির জন্য দেওয়া ১০৩টি অনুমতিপত্র বা পারমিট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এই পারমিটগুলি একধাক্কায় বাতিল হওয়ার ফলে ভারতের রপ্তানিকারকরা এক বিরাট মেগা আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে চলেছেন বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে ব্যবসায়ীরা পুজোর আগে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাঠিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করেছিলেন, সরকারের এই হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। গুজরাট থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছেও বাংলাদেশ সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্ত এক অপ্রত্যাশিত ধাক্কা হয়ে এসেছে, যার প্রভাব সরাসরি দুই দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর পড়তে বাধ্য।
একদিকে যখন বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তখন অন্যদিকে ভারতের আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মেগা চিত্রও সামনে আসছে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গের বাজারে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশের এক বিপুল চাহিদা থাকে। প্রতি বছরই পুজোর আগে বাংলাদেশ সরকার সদিচ্ছার প্রতীক হিসেবে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে থাকে। এই বছরও পুজোর সময়ে ভারতে বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানি করতে চেয়ে সেদেশের মোট ১৮টি ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের ইলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি, পুজোর মেগা উপহার হিসেবে ভারতে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দুই বাংলার এই ইলিশ-রাজনীতির জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, আপাতত সেদিকেই নজর রাখছে দুই দেশের আপামর মৎস্যপ্রেমী বাঙালি।




