Humayun Kabir: মুখ্যমন্ত্রীর মৃ*ত্যুকামনা হুমায়ুনের! শুভেন্দুর ‘টিকিট’ কাটার প্রার্থনায় মেগা বিতর্ক
KOLKATA: Humayun Kabir রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় এমন এক কদর্য এবং নিম্নরুচির মন্তব্য করেছেন, যা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এই নেতা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর মৃ*ত্যুকামনা করে বসেছেন। একটি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতাদর্শগত তীব্র মতানৈক্য থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু সেই বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং শারীরিক নিকেশ কামনার পর্যায়ে নামিয়ে আনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁর এই অভাবনীয় এবং অশালীন মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ নির্লজ্জভাবে এবং অত্যন্ত আক্রোশপূর্ণ ভাষায় তিনি জানান যে, শুক্রবার নমাজ পড়ার সময় তিনি ঈশ্বরের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর পৃথিবী থেকে দ্রুত বিদায় নেওয়ার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করবেন। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীকে যেন ওপরওয়ালা খুব তাড়াতাড়ি তাঁর চূড়ান্ত ‘টিকিট’ কাটিয়ে দেন। রাজনৈতিক ময়দানে যুক্তির লড়াইয়ে পেরে না উঠে, সরাসরি একজন মানুষের আয়ু নিয়ে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য করাকে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার চরম নিদর্শন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁর এই বক্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক শিষ্টাচারকেই লঙ্ঘন করেনি, বরং রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদের প্রতি চরম অবমাননাও প্রদর্শন করেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: জ্ঞানেশের একার সিদ্ধান্ত নয় এসআইআর! ছবি দেখিয়ে বিরোধীদের তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর
নিজের এই ঘৃণ্য মন্তব্যকে আরও জোরালো এবং বিতর্কিত করতে গিয়ে তিনি ভারতের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের বেশ কিছু মর্মান্তিক ঘটনার অশালীন উল্লেখ করেন। তিনি প্রকাশ্যেই স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে ছত্তিশগড়ের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কীভাবে আকস্মিক পতন হয়েছিল এবং মহারাষ্ট্রের বর্ষীয়ান নেতা শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক কেরিয়ারে কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এমনকি দেশের দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক পরিণতির উদাহরণ টেনে এনে তিনি সরাসরি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পরোক্ষভাবে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তাঁর দম্ভোক্তি, অহংকারের পতন নিশ্চিত এবং ঠিক এইভাবেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেও পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার রাজনীতি বরাবরই একটি নিজস্ব শালীনতা এবং সৌজন্যের সংস্কৃতি বহন করে এসেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে চরম সম্মান বজায় রাখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই ধরনের বেনজির এবং বেলাগাম আক্রমণ সেই পুরনো সংস্কৃতিকে একেবারে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো নাগরিকেরই নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন করার এবং বিরোধী দলের নীতির সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে সেই অধিকারের আড়ালে দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি এমন জঘন্য এবং ব্যক্তিগত আক্রোশমূলক মৃ*ত্যুকামনা করা কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতার পর্যায়ে পড়ে না, বরং তা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশকে কলুষিত করে তোলে।

আরও পড়ুন: Sourav Ganguly: ‘কেউ শুনবে না তোমার কথা, উঠে চলে যেতে পারো!’ বিগ বসে নিরঞ্জনকে ভর্ৎসনা সৌরভের
এই চরম বিতর্কিত এবং ঘৃণ্য মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্য এবং শিষ্টাচার আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক নীতি বা আদর্শ কারও অপছন্দ হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য এভাবে প্রকাশ্যে কারও মৃ*ত্যুকামনা করা অত্যন্ত অমানবিক এবং বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কারও দয়ায় ওই পদে বসেননি, বাংলার আপামর জনগণ তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে ওই আসনে বসিয়েছেন। সবশেষে প্রবাদবাক্য উদ্ধৃত করে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় কটাক্ষ করেন যে, শকুনের অভিশাপে কখনও গরু মরে না, তাই এই ধরনের নিম্নমানের মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রতিষ্ঠায় কোনো আঁচড় লাগবে না।




