Suvendu Adhikari: জ্ঞানেশের একার সিদ্ধান্ত নয় এসআইআর! ছবি দেখিয়ে বিরোধীদের তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর
KOLKATA: Suvendu Adhikari দেশের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মাঝে সরাসরি ময়দানে নামলেন। দেশে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন বিরোধীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দিকে আঙুল তুলছেন, তখন তিন কমিশনারের একসঙ্গে বসে থাকার ছবি তুলে ধরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার সল্টলেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, নির্বাচন সদনের এই ঐক্যবদ্ধ ছবিই অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে ভোটার তালিকার সিদ্ধান্ত কোনো একজন ব্যক্তির নয়। এই মেগা ইস্যুর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাম্প্রতিক কথিত ‘আঁতাঁত’ বা বন্ধুত্ব নিয়েও তীব্র বাক্যবাণ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাকি দুই কমিশনারের মতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, গত দশ মাসে অন্তত চোদ্দোবার অন্য দুই কমিশনার জ্ঞানেশের সিদ্ধান্তে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্থানীয় আধিকারিকদের (ERO) অকেজো করে রেখে দিল্লি থেকে পোর্টাল নিয়ন্ত্রণ করার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিরুদ্ধে। এই খবর সামনে আসার পরেই বিরোধী দলগুলি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে সরব হয়। কিন্তু শনিবার নির্বাচন সদন থেকে তিন কমিশনারের এক ফ্রেমে হাসিমুখের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর, মুখ্যমন্ত্রী সেই ছবিকেই হাতিয়ার করে বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন।

বিরোধীদের একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে ভোগা রাজনৈতিক দলগুলি এখন একটি খবরের কাগজের রিপোর্টকে আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে চরম কটাক্ষ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, টানা চৌত্রিশ বছরের বাম অপশাসনের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করেই একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল। অথচ আজ সেই সিপিএমের সঙ্গেই প্রকাশ্যে হাত মেলাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি বিলে তৃণমূল এবং সিপিএম বিধায়কের একসঙ্গে ভোট দেওয়ার ঘটনাকে তুলে ধরে তিনি এই ‘অশুভ আঁতাঁত’-এর কড়া সমালোচনা করেন।

রাজ্যের ভোটার তালিকায় গরমিল নিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, সে কথাও এদিন স্পষ্ট করে মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি উল্লেখ করেন, খোদ মমতার দায়ের করা সেই মামলার ভিত্তিতেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়েছিল। সেই কড়া আইনি প্রক্রিয়ায় রাজ্যের প্রায় ষাট লক্ষ সন্দেহভাজন ভোটারের মধ্যে সাতাশ লক্ষ ভুয়ো নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আদালতের নির্দেশে স্বচ্ছভাবে কাজ হওয়ার পরেও নির্বাচনে হেরে গিয়ে এখন চরম হতাশায় ভুগছেন বিরোধীরা। সেই কারণেই তাঁরা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচিত সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থাকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছেন।

আরও পড়ুন: Nitin Gadkari: পেট্রোল লাগবেই না, ১০০% ইথানলেই ছুটবে গাড়ি! খরচ লিটারে ২৫ টাকা, মেগা ঘোষণা মন্ত্রীর
শনিবার শ্রীরামপুরে আয়োজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাকেও এদিন চরম কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ওই সভায় জনসমাগম ছিল একেবারেই নগণ্য, যা বিরোধীদের জনসমর্থন হারানোর বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরে। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, সেখানে মাত্র দেড়শো জন সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, আর তাদের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন ছিল প্রায় একশো সত্তর জন পুলিশ কর্মী। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত ধোঁয়াশা কাটাতে শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নতুন ভোটারদের নাম তোলা বা বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-রাই (ERO) সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।




