Nitin Gadkari: পেট্রোল লাগবেই না, ১০০% ইথানলেই ছুটবে গাড়ি! খরচ লিটারে ২৫ টাকা, মেগা ঘোষণা মন্ত্রীর
NEW DELHI: Nitin Gadkari দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং গাড়িচালকদের জন্য এক বিরাট ও যুগান্তকারী সুখবর নিয়ে এলেন। বর্তমানে পেট্রোল ও ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে আমজনতার। সেই চরম আর্থিক সংকটের আবহে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী এক মেগা ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে গাড়ি চালানোর জন্য আর মহার্ঘ্য পেট্রোলের প্রয়োজনই পড়বে না। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত আধুনিক গাড়ি এবার ভারতের বাজারে আসতে চলেছে। সবচেয়ে বড় চমকের বিষয় হলো, এই নতুন প্রযুক্তির গাড়িগুলির চালানোর খরচ হবে প্রচলিত পেট্রোল চালিত গাড়ির তুলনায় একেবারেই নামমাত্র, যা লিটার প্রতি মাত্র ২৫ টাকা পেট্রোলের খরচের সমান বলে তিনি মেগা দাবি করেছেন।
এই অভাবনীয় এবং যুগান্তকারী গাড়ির আত্মপ্রকাশ ঘটতে চলেছে আগামী অক্টোবর মাসেই। মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এক নতুন বিপ্লব আনতে জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা টয়োটা তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘ইনোভা ফ্লেক্স-ফুয়েল কার’ (Innova flex-fuel car) লঞ্চ করতে চলেছে। এই মেগা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য স্বয়ং তাঁকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, এই আধুনিক গাড়ির আরেকটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন যে, এই ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত গাড়িটি যখন রাস্তায় ছুটবে, তখন তার ইঞ্জিন নিজস্ব মেকানিজমে কাজ করে প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। ফলস্বরূপ, একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমবে, তেমনি পরিবেশ দূষণও অভাবনীয় মাত্রায় হ্রাস পাবে।
বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতের বাজারে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মেশানো বা ই-২০ (E20) জ্বালানি নিয়ে দেশজুড়ে এক তুমুল বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অনেক মহলের অভিযোগ ছিল যে, অতিরিক্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ু কমে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে এই সমস্ত সমালোচনা ও বিতর্কের কড়া জবাব দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন সমস্ত ধোঁয়াশা দূর করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৯টি উন্নত দেশে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি অত্যন্ত সফলভাবে এবং কোনো সমস্যা ছাড়াই ব্যবহৃত হচ্ছে। মন্ত্রীর মেগা দাবি, ভারতে এখনও পর্যন্ত এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট বা প্রমাণিত অভিযোগ সরকারের কাছে জমা পড়েনি। বরং আধুনিক ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিনগুলি এমনভাবেই তৈরি করা হচ্ছে যাতে বিশুদ্ধ পেট্রোল থেকে শুরু করে ই-২০ বা ১০০ শতাংশ ইথানল, যেকোনো জ্বালানিতেই সেগুলি অনায়াসে চলতে পারে।
টয়োটা ছাড়াও ইতিমধ্যে আরও বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা এই আধুনিক প্রযুক্তির দিকে জোর কদমে পা বাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্থা মারুতি সুজুকি তাদের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির মডেল সাধারণ মানুষের সামনে সফলভাবে প্রকাশ্যে এনেছে। তবে শুধু চারচাকা গাড়ি নয়, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির পরিকাঠামো বদলাতেও পরিবহণ মন্ত্রক বিশেষ মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গডকড়ী জানিয়েছেন যে, তিনি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে গ্রামীণ এলাকায় অ্যাপ-নির্ভর বাইক ট্যাক্সি পরিষেবা ব্যাপকভাবে চালু করা যায়। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে একদিকে যেমন বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের মেগা সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনি গ্রামের সাধারণ দু’চাকার মালিকদেরও আয় অভাবনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে।
দেশের ভবিষ্যৎ পরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে খোলনলচে বদলে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এখন পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর থেকে নির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাইছে। ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত (EV) এবং হাইড্রোজেন চালিত গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি করার পক্ষেও এদিন জোরালো সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দূরদর্শী মত অনুযায়ী, এই বিকল্প জ্বালানিগুলির বহুল ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ যেমন অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসবে, ঠিক তেমনই গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিরাট জোয়ার আসবে। কারণ, ইথানল মূলত আখ এবং অন্যান্য কৃষিজাত বর্জ্য থেকে তৈরি হয়। ফলে ইথানলের চাহিদা ও ব্যবহার যত বাড়বে, দেশের প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম মিলবে এবং তাঁদের রোজগারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মেগা আশ্বাস দিয়েছেন।



