Nepal Avalanche: হিমলুং শৃঙ্গে ফের নামল তুষারধস! নিখোঁজ অন্তত ১০ জন অভিযাত্রী
KATHMANDU: Nepal Avalanche-এর কবলে পড়ে নেপালের মানাং জেলায় ফের তৈরি হলো এক চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। ৭১২৬ মিটার উঁচু দুর্গম হিমলুং হিমাল শৃঙ্গে আচমকা ধেয়ে আসা এক সুবিশাল তুষারধসের নিচে চাপা পড়েছেন বেশ কয়েকজন পর্বতারোহী ও তাঁদের সহযোগী কর্মীরা। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, নার ফু অঞ্চলের এই বিপদসংকুল এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই আচমকা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বিপুল পরিমাণ বরফের স্তূপ নেমে আসে। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাম্পের সঙ্গে একাধিক অভিযাত্রীর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এই আকস্মিক তুষারধসের খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা আন্তর্জাতিক পর্বতারোহণ মহলে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা ‘এক্সপিডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন নেপাল’-এর সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভান্ডারী এই দুর্ঘটনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিখোঁজ ১০ জনের দলে দেশি-বিদেশি পর্বতারোহীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন স্থানীয় গাইড ও সহকারী কর্মী বা শেরপারাও রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে দু’জন ‘ইমাজিন নেপাল প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক সংস্থার অধীনে ছিলেন এবং বাকি আটজন ‘হিমালয়ান হলিডেজ নেপাল’-এর মাধ্যমে ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ঠিক কোন অবস্থানে তাঁরা বরফের নিচে আটকে পড়েছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেখানে যোগাযোগ পরিকাঠামো ভেঙে পড়ায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Vladimir Putin: রাশিয়ার নির্বাচনে জয়ী পুতিন! ‘ভুয়ো নির্বাচন’ বলে তোপ দাগল ইউরোপ ও পশ্চিমী দেশগুলি
নেপালের পর্যটন দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল রামকৃষ্ণ লামিছানে জানিয়েছেন যে, গোটা পরিস্থিতি প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিখোঁজ অভিযাত্রীদের দ্রুত চিহ্নিত করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ হেলিকপ্টার পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল তল্লাশি অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ওই অঞ্চলে ক্রমাগত তুষারপাত চলতে থাকায় এবং দৃশ্যমানতা বিপজ্জনকভাবে কমে আসায় আকাশপথে উদ্ধারকাজ চালানো এক প্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল প্রাকৃতিক বাধা সত্ত্বেও স্থলপথে উদ্ধারকারীরা কীভাবে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেন, সেই পথই এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই নেপালের বিস্তীর্ণ উচ্চ পার্বত্য এলাকা জুড়ে প্রবল তুষারপাত এবং অবিরাম বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। মৌসুমি আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে পার্বত্য জেলাগুলিতে হঠাৎ হড়পা বান ও একের পর এক তুষারধস নামার প্রবল ঝুঁকির কথা আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। তা সত্ত্বেও মরশুমের কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক দল শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছিল। অত্যধিক পরিমাণে তাজা বরফ জমার ফলেই পাহাড়ি ঢালগুলি আলগা হয়ে এই মারাত্মক ধস সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া আরও খারাপ হতে পারে এমন আশঙ্কায় ওই এলাকার আশেপাশের অন্যান্য পর্বতারোহীদেরও অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে এমন মারাত্মক তুষার বিপর্যয় অবশ্য এই প্রথম নয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই নেপালের রাসুয়া জেলায় এক প্রলয়ংকর তুষারধস এবং তার থেকে সৃষ্ট হড়পা বানে প্রায় চৌদ্দশো মানুষের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু হয়েছিল। সেই ভয়াল স্মৃতির রেশ কাটতে না কাটতেই হিমলুং শৃঙ্গে এই নতুন বিপত্তি নেপালের পর্যটন ও ট্র্যাকিং ক্ষেত্রে এক গভীর আতঙ্কের আবহ তৈরি করল। নিখোঁজ এই ১০ জনের জীবন বাঁচাতে এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন উদ্ধারকারীরা। প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে বরফের বুক চিরে শেষ পর্যন্ত কতজনকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই পরম উদ্বেগে তাকিয়ে রয়েছে নেপাল প্রশাসন সহ গোটা বিশ্ব।




