Kedarnath Yatra: কেদারনাথের পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! পাথর পড়ে শিশুর মৃ*ত্যু, জারি উদ্ধারকাজ
DEHRADUN: Kedarnath Yatra করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক এবং চরম অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেন তীর্থযাত্রীরা। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় ট্রেকিং রুটে আচমকা পাহাড় থেকে বিশালাকার পাথর খসে পড়ে এক পাঁচ বছর বয়সী ফুটফুটে শিশুর মর্মান্তিক মৃ*ত্যু হয়েছে। এই আকস্মিক ধস এবং পাথর বৃষ্টির কারণে কেদারনাথ যাওয়ার পাহাড়ি রাস্তাটি সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং আটকে পড়া প্রায় হাজারখানেক পুণ্যার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার জেরে গোটা তীর্থক্ষেত্র জুড়ে এক গভীর শোক এবং প্রবল আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড়ি পথে চিরবাসা নামক এলাকার কাছে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, উত্তরপ্রদেশের এটাহ জেলার বাসিন্দা রোঠাশ যাদব তাঁর পরিবার এবং পাঁচ বছরের শিশুপুত্র যশকে নিয়ে বাবার দর্শনে যাচ্ছিলেন। দুর্গম পথ দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ করেই ওপর থেকে একটি বিশালাকার পাথর প্রবল বেগে গড়িয়ে এসে সোজা ওই একরত্তি শিশুটির ওপর আছড়ে পড়ে। উদ্ধারকারীরা দ্রুতগতিতে সেখানে পৌঁছালেও শেষরক্ষা হয়নি, ঘটনাস্থলেই ওই নিষ্পাপ শিশুটি প্রাণ হারায়। পরবর্তীতে তার নিথর দেহটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালকিতে করে জঙ্গলচট্টির ভৈরব মন্দির এলাকার দিকে নিয়ে আসা হয়। চোখের সামনে সন্তানের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।

এই ভয়ংকর পাথর পতনের জেরে চিরবাসা সংলগ্ন ট্রেকিং রুটটিতে বিস্তর ধ্বংসাবশেষ এবং পাথরের স্তূপ জমা হয়ে যায়, যার ফলে ওই পথে মানুষের যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে পড়েন বহু তীর্থযাত্রী। বিপদের গুরুত্ব অনুধাবন করে উদ্ধারকারী দলগুলি কোনো রকম সময় নষ্ট না করে মেগা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পুণ্যার্থীকে অত্যন্ত সাবধানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীদের তরফ থেকে কড়া সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে যে, ওই এলাকায় এখনও নতুন করে ধস নামার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, তাই যাতায়াতের ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীদের চরম সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে উত্তরাখণ্ডের বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকেই রাজ্যের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় একটানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত চলছে এবং উঁচু শৃঙ্গগুলিতে তুষারপাতের জেরে তাপমাত্রাও অনেকটা নিচে নেমে গিয়েছে। এহেন বিপজ্জনক প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য চারধাম যাত্রা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ফলে যে সমস্ত পুণ্যার্থীরা গৌরীকুণ্ডের দিকে ফিরে আসছেন, তাঁদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি, প্রবল বৃষ্টির কারণে ঋষিকেশের কাছে গঙ্গা নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে রাফটিং পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ি রাজ্যের এই চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে রবিবারই চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, চম্পাবত, নৈনিতাল এবং পাউরি জেলার মতো একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় লাল সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। গোটা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি রাজ্যের সমস্ত পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলিকে আগামী চব্বিশ ঘণ্টা চরম সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দূরদূরান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেদারনাথ যাত্রাপথে আটকে থাকা অবশিষ্ট পুণ্যার্থীদের সুরক্ষিতভাবে সমতলে ফিরিয়ে আনাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



