Kolkata Metro Night Service: মহাসপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সারারাত মেট্রো চালুর সিদ্ধান্ত, যাত্রীদের সুরক্ষায় কি বিশেষ ব্যবস্থা নিল রেল?

Published:

Kolkata Metro Night Service: পুজোয় সারারাত চলবে মেট্রো, যাত্রীদের সুরক্ষায় আরপিএফ ও কলকাতা পুলিশের যৌথ কড়া নিরাপত্তা বলয়

রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ

Kolkata: দুর্গাপুজোর আনন্দ ও উন্মাদনা এখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, আর এই মহোৎসবের আমেজকে আরও মসৃণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে শনিবার মহাসপ্তমী থেকে টানা চার দিন সারারাত মেট্রো চালানোর ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ দশমী তিথি পর্যন্ত দুপুর ১টা থেকে শুরু করে ভোর ৪টে পর্যন্ত মেট্রোর চাকা সচল থাকবে, যার ফলে রাতের প্যান্ডেল হপিংয়ে বের হওয়া লক্ষ লক্ষ পুজোপ্রেমী মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হয়ে উঠবে। তবে এই বিপুল পরিমাণ যাত্রীর ভিড় সামলানো এবং সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কলকাতা মেট্রো স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম ও রেকগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রেল রক্ষী বাহিনী বা আরপিএফ (RPF) এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ সমন্বয়ে শহরের এই লাইফলাইনকে এক দুর্ভেদ্য নিরাপত্তার বেড়াজালে ঘিরে ফেলা হয়েছে, যা উৎসবের দিনগুলিতে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দারুণভাবে সাহায্য করবে।

Advertisement Andaman Vibes
Advertisement of Andaman vibes

অতীতের ভিড়ের রেকর্ড এবং যাত্রীদের যাতায়াতের চাপ পর্যালোচনা করে মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একাধিক অতি-সংবেদনশীল স্টেশন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বাড়তি সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই স্টেশনগুলির মধ্যে দক্ষিণেশ্বর, দমদম, শ্যামবাজার, শোভাবাজার-সুতানটি, মহাত্মা গান্ধী রোড, সেন্ট্রাল, পার্ক স্ট্রিট, কালীঘাট, রবীন্দ্র সরোবর, মাস্টারদা সূর্য সেন, এসপ্ল্যানেড, হাওড়া, হাওড়া ময়দান ও শিয়ালদহের মতো জনবহুল স্থানগুলি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সামলানোর জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলির প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত আরপিএফ জওয়ান এবং মেট্রো কর্মী মোতায়েন রাখা হবে, যাঁরা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত থাকবেন। এছাড়া নারী সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রতিটি স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক মহিলা নিরাপত্তা রক্ষী এবং কিউআরটি (QRT) টিম সদা জাগ্রত থাকবে।

Amit Shah Kolkata visit Durga Puja: দুর্গাপুজোর আবহে আজ রাতে রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কোন কোন বিখ্যাত মণ্ডপে যাবেন তিনি?

শুধুমাত্র যাত্রী ওঠানামার প্ল্যাটফর্ম বা স্টেশন চত্বরই নয়, বরং মেট্রো পরিকাঠামোর প্রতিটি খুঁটিনাটি নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করতে মিড-পয়েন্ট শ্যাফ্ট, কুলিং টাওয়ার, পাম্প হাউস এবং সাব-স্টেশনগুলির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত জায়গাগুলিতেও বিশেষ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুজো কদিন মেট্রো রেকগুলি যেখানে রাতে সংরক্ষিত থাকে অর্থাৎ নোয়াপাড়া, টালিগঞ্জ, কবি সুভাষ, সেন্ট্রাল পার্ক এবং জোকা কারশেডগুলিতেও বাড়তি আরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাত বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করতে মেট্রো রেলের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড বা শারমেয় বাহিনী অত্যন্ত সক্রিয় থাকবে এবং সুনির্দিষ্ট সময় পরপর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হঠাৎ তল্লাশি অভিযান চালাবে।

Advertisement
Advertisement of Piyachanda Nritya Academy

প্রশাসনের এই ধরনের বহুমুখী ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে পুজোয় ঘুরতে বের হওয়া সাধারণ মানুষ এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, কারণ রাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে মেট্রো পরিষেবা সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে রাতের দিকে ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, এবারের সুসংহত পরিকল্পনা সেই সমস্ত আশঙ্কাকে অনেকাংশেই দূর করে দিয়েছে। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে আরপিএফের এই নিবিড় সমন্বয় কেবল যাত্রীদের সুরক্ষাই নিশ্চিত করছে না, বরং মেট্রোর মতো জনবহুল গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও এক বিরাট ভূমিকা পালন করছে। উৎসবের এই দিনগুলিতে তিলোত্তমার রাজপথের পাশাপাশি পাতালপথের এই বাড়তি নিরাপত্তা বলয় শহরের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

Sandip Ghosh Bail: আর জি কর দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষ জামিন পাওয়ায় কেন ক্ষোভে ফুঁসছে চিকিৎসক মহল?

সব মিলিয়ে, মহাসপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত সারারাত মেট্রো চালানোর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নেওয়া কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা কলকাতার দুর্গাপুজোর আনন্দকে এক অন্য মাত্রায় উন্নীত করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের উৎসাহ ও উন্মাদনাকে সঠিক দিশা দেখাতে এবং যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন যেভাবে কোমর বেঁধে নেমেছে, তা প্রশংসার দাবিদার। নাগরিকরা যাতে কোনো রকম ভয় বা দুশ্চিন্তা ছাড়া উৎসবের রাতগুলিতে অবাধে প্যান্ডেল পরিক্রমা করতে পারেন, তার জন্য রেল ও রাজ্য প্রশাসন সর্বতোভাবে প্রস্তুত রয়েছে। সমস্ত নিয়ম ও সুরক্ষা বিধি মেনে চলাকালীন সাধারণ মানুষও যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে এই শারদোৎসব সকলের জন্যই এক নিরাপদ ও আনন্দমুখর স্মৃতি হয়ে থাকবে।

Advertisement
Advertisement of S. Bhattacharya & Associate
Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img