Supreme Court: জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মেগা রায়! পুরভোটে মিলছে না পুরনো চিহ্ন

Published:

Supreme Court: জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মেগা রায়! পুরভোটে মিলছে না পুরনো চিহ্ন

NEW DELHI: Supreme Court বা দেশের শীর্ষ আদালত তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে এক বড়সড় রায় ঘোষণা করল। আসন্ন পুরভোটের আগে এই প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই বিবদমান শিবিরের মধ্যে যে চরম আইনি ও রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছিল, আপাতত তাতে কোনো চূড়ান্ত সমাধানসূত্র মিলল না। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রতীক বরাদ্দের এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে এখনই তারা কোনো চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নেবে না। বরং পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে আরও চার মাস বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে এটা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আসন্ন পুরভোটে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ইভিএম মেশিনে চিরপরিচিত জোড়াফুল চিহ্নটি দেখতে পাবেন না।

Advertisement Burger4u

প্রতীক নিয়ে এই আইনি লড়াইয়ে Supreme Court যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে একটি বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আশা ছিল যে, অন্তত পুরভোটের আগে জোড়াফুল প্রতীকটি তাদের অনুকূলে ফিরে আসবে এবং তারা চেনা প্রতীকেই সাধারণ মানুষের দরবারে যেতে পারবে। কিন্তু আদালতের এই নতুন নির্দেশের ফলে সেই আশায় আপাতত জল ঢেলে দেওয়া হলো। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের আগে ইভিএম মেশিনে পুরনো প্রতীকের ফিরে আসার কোনো আইনি সম্ভাবনা আর রইল না। ফলে আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন প্রতীক নিয়ে প্রচার করার এক চরম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে শাসকদল।

IMG 20260928 WA0033
Kunal Ghosh: হা*মলাকাণ্ডে হাইকোর্টের দ্বারস্থ কুণাল! মিলল মামলা দায়েরের অনুমতি

আরও পড়ুনঃ Kunal Ghosh: হা*মলাকাণ্ডে হাইকোর্টের দ্বারস্থ কুণাল! মিলল মামলা দায়েরের অনুমতি

শীর্ষ আদালতের প্রধান নির্দেশ অনুযায়ী, তৃণমূলের বিবাদমান দুই পক্ষকেই প্রথমে নিজেদের সপক্ষে সমস্ত অতিরিক্ত আইনি নথি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এই যাবতীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য দুই শিবিরকে আগামী চার সপ্তাহ বা এক মাস সময় বেঁধে দিয়েছে আদালত। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষকে অকাট্য প্রমাণের সাহায্যে দাবি করতে হবে যে, প্রকৃত জোড়াফুল প্রতীকের ওপর কাদের আইনি অধিকার সবচেয়ে বেশি। দুই শিবিরের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই কমিশনের আইনি বিশেষজ্ঞরা তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত পর্যালোচনা শুরু করবেন।

Advertisement

দুই শিবিরের নথিপত্র জমা পড়ার পর, সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশন আরও তিন মাস সময় পাবে বলে জানিয়েছে আদালত। অর্থাৎ, নথি জমা দেওয়ার এক মাস এবং কমিশনের পর্যালোচনার তিন মাস—সব মিলিয়ে প্রায় চার মাসের আগে এই দীর্ঘস্থায়ী প্রতীক বিতর্কের কোনো স্থায়ী মীমাংসা হওয়ার বিন্দুবিসর্গ সম্ভাবনা নেই। তবে শীর্ষ আদালত এ কথাও উল্লেখ করে রেখেছে যে, নির্বাচন কমিশনের যদি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে কোনো বিশেষ আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে তারা সরাসরি শীর্ষ আদালতকে আইনিভাবে বিষয়টি অবগত করতে পারবে।

Kedarnath Yatra: কেদারনাথ যাত্রাপথে ধস এবং উদ্ধারকাজে ব্যস্ত প্রশাসন
Kedarnath Yatra: কেদারনাথ যাত্রাপথে ধস এবং উদ্ধারকাজে ব্যস্ত প্রশাসন

আরও পড়ুনঃ Kedarnath Yatra: কেদারনাথ যাত্রায় চরম বিপর্যয়! পাথর পড়ে ৫ বছরের শিশুর মৃ*ত্যু, উদ্ধার ১০০০ পুণ্যার্থী

পুরনো জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায়, আসন্ন পুরভোটে দুই শিবিরকেই ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে মানুষের দরবারে ভোট চাইতে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরকে আপাতত ‘ফুটবলার’ প্রতীকে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। অন্যদিকে, দলের বিরোধী শিবির অর্থাৎ গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে আসন্ন ভোটের জন্য ‘খাম’ বা এনভেলপ প্রতীকটি বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে জোড়াফুল ছাড়া তৃণমূলের ভোট ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার এই দৃশ্য যে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই চার মাসের আইনি লড়াইয়ের পর শেষ হাসি কে হাসে।

Ad

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img