Kunal Ghosh: হা*মলাকাণ্ডে হাইকোর্টের দ্বারস্থ কুণাল! মিলল মামলা দায়েরের অনুমতি
KOLKATA: Kunal Ghosh অর্থাৎ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তাঁর নিজের কেন্দ্রেই ভয়াবহ হা*মলার শিকার হওয়ার পর এবার আইনি সুরক্ষার দাবিতে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন। রবিবার তাঁর গাড়িতে প্রাণঘাতী আ*ক্রমণের অভিযোগ ওঠার পর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই চাঞ্চল্যকর হা*মলাকাণ্ডে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করার অনুমতি প্রদান করেছেন। রাজ্যের একজন শাসকদলের বিধায়কের ওপর খাস কলকাতার বুকে এমন সশস্ত্র আ*ক্রমণের ঘটনা রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই চরম নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতিতে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে যে, মামলা দায়ের করার অনুমতি মিললেও বিধায়কের একটি বিশেষ আর্জি অবশ্য খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষের আইনজীবীর তরফ থেকে আদালতে এই স্পর্শকাতর মামলাটির অত্যন্ত দ্রুত বা স্পেশাল শুনানির জন্য জোরদার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদনটি আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন। আদালতের তরফ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অন্য সাধারণ মামলার মতোই সম্পূর্ণ আইনি নিয়ম এবং নির্দিষ্ট তালিকা মেনেই এই মামলাটির শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ফলে এই হাই-প্রোফাইল মামলাটির জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা জানতে আগামী নির্ধারিত শুনানির দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

রবিবারের এই রোমহর্ষক হা*মলার বিবরণ দিতে গিয়ে কার্যত শিউরে উঠেছেন খোদ বিধায়ক। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটার বুকেই একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাইক বাহিনী নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিতে এই প্রাণঘাতী হা*মলা চালায়। শুধু ইট-পাথর নয়, দুষ্কৃতীদের হাতে রীতিমতো রিভলবার এবং ভারী হাতুড়ি ছিল বলে তিনি মারাত্মক দাবি করেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় খু*ন করার চূড়ান্ত ছক কষা হয়েছিল। সেই চরম আতঙ্কের মুহূর্তে নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং বড়সড় বিপদের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান।

এই প্রাণঘাতী হা*মলার ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতাও খুব দ্রুত শুরু হয়। বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে নারকেলডাঙা থানাতেই একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনি নিয়ম অনুযায়ী সেই অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট বেলেঘাটা থানায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর (FIR) রুজু করে পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ওই অজ্ঞাতপরিচয় বাইক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র আইন, খু*নের চেষ্টা এবং বেধড়ক মা*রধর-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ও কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের দ্রুত চিহ্নিত করার কাজ চালাচ্ছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।

তবে তৃণমূল বিধায়কের ওপর এমন সংঘবদ্ধ হা*মলা এই প্রথম নয়। এই ঘটনার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ শনিবারও হুগলির উত্তরপাড়ায় তাঁর কনভয়ের ওপর ব্যাপক হা*মলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরপর দু’দিন রাজ্যের দুই আলাদা জায়গায় একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এহেন সশস্ত্র আ*ক্রমণ নিঃসন্দেহে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শনিবারের সেই আ*ক্রমণের পর রবিবারের এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হা*মলা প্রমাণ করে যে, দুষ্কৃতীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখন গোটা রাজ্যের নজর কলকাতা হাইকোর্টের দিকে, যেখানে এই জোড়া হা*মলাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।




