Minakshi Mukherjee: ‘তৃণমূলের হাতে কমরেডদের রক্ত’! মমতার সঙ্গে জোটের জল্পনা উড়িয়ে বিস্ফোরক মীনাক্ষী
KOLKATA: Minakshi Mukherjee জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী মেগা জোটকে মজবুত করতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ছাতার তলায় আসার জল্পনা শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে দলের শীর্ষ নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়ের বার্তা দিলেও, বঙ্গ সিপিএমের অন্দরে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ এবং চরম অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। দলের অন্যতম যুব মুখ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এই মেগা জোটের জল্পনাকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে রাজ্যের নিচুতলার কর্মীদের আবেগ কোনোভাবেই মিল খাচ্ছে না।

আলিপুরদুয়ারে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন যুব নেত্রী। সেখানেই তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের সম্ভাব্য জোট বা রাজনৈতিক বোঝাপড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি নিজের যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দেন। অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় তিনি স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান শাসকদলের হাতে রাজ্যের অসংখ্য বামপন্থী কমরেডদের রক্ত লেগে রয়েছে, তাই তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন যে, সিপিএমের সঙ্গে জোটের এই ভুয়ো আলোচনা ছড়িয়ে আসলে শাসকদলকে নতুন করে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার এক সুকৌশলী চেষ্টা চালানো হচ্ছে মাত্র।

আরও পড়ুন: Deepak Bapari: দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে এনআইএ-র হাতে গ্রে*প্তার ইউটিউবার!
শুধুমাত্র মীনাক্ষীই নন, দলের বর্ষীয়ান নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীও শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সঙ্গে যেকোনো রকম জোটের সম্ভাবনাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি অত্যন্ত বিরক্তির সঙ্গে জানান যে, তৃণমূলের সঙ্গে জোট নিয়ে বঙ্গ সিপিএমের কোনো স্তরের নেতা বা কর্মী বিন্দুমাত্র চিন্তাভাবনা করছেন না। সুজনের সাফ কথা, যদি কেউ এমন অবাস্তব জোটের স্বপ্ন দেখেও থাকেন, তবে অচিরেই তিনি বুঝতে পারবেন যে বাস্তব রাজনীতিতে এমনটা ঘটার কোনো যৌক্তিক কারণ বা ভিত্তি নেই। দলের প্রথম সারির এই দুই হেভিওয়েট নেতার মন্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট কোনোভাবেই কালীঘাটের সঙ্গে রাজনৈতিক আপস করতে প্রস্তুত নয়।

বঙ্গ রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই সিপিএমের প্রধান এবং কট্টর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ময়দানে থেকেছে। ৩৪ বছরের টানা বামফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে যিনি মসনদে বসেছিলেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গেই এখন সর্বভারতীয় স্বার্থে হাত মেলানোর জল্পনা বঙ্গ সিপিএমকে কার্যত এক চরম অস্বস্তিকর মনস্তাত্ত্বিক পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দলের নিচুতলার সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকরা, যাঁরা প্রতিদিন মাঠেময়দানে শাসকদলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ লড়াই করছেন, তাঁদের কাছে এই জোটের বার্তা অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজ্য নেতারা। এই অন্তর্দ্বন্দ্বই এখন আলিমুদ্দিনের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: Hindustan Motors: হিন্দমোটরে ফের শিল্পের সম্ভাবনা! বন্ধ কারখানার জমিতেই তৈরি হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি
এই প্রবল বিতর্ক এবং অস্বস্তির মাঝে পড়ে দলের প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, মমতা বা তৃণমূলের সঙ্গে সর্বভারতীয় স্তরে যেটুকু সমন্বয় বা আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, তার পুরোটাই শুধুমাত্র বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। এর সঙ্গে রাজ্যের আসন্ন কোনো নির্বাচন বা ভোট রাজনীতির বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি জোরালো দাবি করেছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, সেলিমের এই তাত্ত্বিক যুক্তি দলের নিচুতলার সাধারণ কর্মীদের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে খোদ বাম শিবিরের অন্দরেই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।




